পাকুন্দিয়ায় কম খরচে সফলতায় সূর্যমুখী ফুল চাষে ঝুঁকছে কৃষক । বাড়ছে সূর্যমুখী ফুল । অর্থনীতিতে রাখছে ভূমিকা । সকালের রোদে সূর্যের দিকে মুখ তুলে রয়েছে সারি সারি সূর্যমুখী ফুল। এ এক অনন্য দৃশ্য। হলুদ রঙের ঝলমলে এসব সূর্যমুখী ফুল নজর কাড়ছে ছোট-বড় সকলের। তাইতো প্রতিদিন সূর্যমুখী ফুল বাগানে ভিড় করছেন অনেকে। ফুটে ওঠা এ ফুল এখন প্রকৃতিপ্রেমী ও দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ বছর সূর্যমুখী ফুলের চাষ হয়েছে। উপজেলা কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় কৃষকরা এসব সূর্যমুখী ফুলের আবাদ করেছেন।
জানা গেছে, সূর্যমুখী চাষ তুলনামূলকভাবে সহজ এবং অর্থনৈতিকভাবেও লাভজনক। একদিকে যেমন তেল উৎপাদনে এর গুরুত্ব রয়েছে, অপর দিকে সৌন্দর্য্যের কারণেও ফুলটি বিশেষ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। ফলে আগ্রহ বাড়ছে চাষিদের মধ্যেও।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, এ বছর উপজেলার বড়আজলদী, চণ্ডিপাশাসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ১০ বিঘা জমিতে সূর্যমুখীর চাষ হয়েছে। সূর্যমুখী চাষে কৃষকদের প্রণোদনার পাশাপাশি কৃষি কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক পরামর্শ প্রদান করে সহযোগিতা করে আসছেন। কম খরচে সহজেই কৃষকরা এর আবাদ করতে পারেন। স্থানীয় বাজারে সূর্যমুখী বীজের ভালো দাম থাকায় এ থেকে তারা লাভবান হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
সরেজমিনে উপজেলার বড়আজলদী গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, এ গ্রামের কৃষক মজনু মিয়া প্রথমবারের মতো তার ৩৩ শতক জমিতে সূর্যমুখী ফুলের আবাদ করেছেন। বর্তমানে তার বাগানে ফুল ফুটতে শুরু করেছে। প্রতিদিন অনেক প্রকৃতিপ্রেমী তার বাগানে ঘুরতে আসছেন। অনেকে ছবি তুলছেন। যে ফলন আসছে তাতে তিনি লাভবান হবেন বলে জানিয়েছেন। এছাড়াও এ গ্রামের কৃষক হাদিউল ইসলাম তার দুই বিঘা জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছেন। তার জমিতেও ফলন আসতে শুরু করেছে।
সারোয়ার হোসেন নামে এক দর্শনার্থী বলেন, সূর্যমুখী ফুল শুধু সৌন্দর্যই নয়, মানসিক প্রশান্তিও এনে দেয়। এমন রঙিন ফুল প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক আরো গভীর করে তোলে। তাই বন্ধুদের সঙ্গে দেখতে এসেছি।
বড়আজলদী গ্রামের সূর্যমুখী চাষি মজনু মিয়া বলেন, কৃষি কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর ভাইয়ের পরামর্শে প্রথমবারের মতো আমার ৩৩ শতক জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছি। এতে আমার তেমন একটা খরচ হয়নি। মাশাল্লাহ জমিতে ফলন আসতে শুরু করেছে। আশা করছি লাভবান হব। চণ্ডিপাশা ব্লকের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পার্টনার প্রকল্পের আওতায় বড় আজলদী গ্রামের দুইজন কৃষককে উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমে সূর্যমুখী চাষ করিয়েছি। এতে তাদের খুবই সামান্য খরচ হয়েছে। জমিতে ফলন ভালো আসছে। আশা করছি তারা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নুরে-ই-আলম বলেন, সূর্যমুখী একটি লাভজনক চাষ। পরিবেশের ইকোসিস্টেম ঠিক রাখতে বিভিন্ন চাষাবাদ টিকিয়ে রাখতে হয়। আমরা কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছি। সূর্যমুখীর বীজের বাজারমূল্য বেশ ভালো। কৃষকরা লাভবান হবেন বলে আশা করছি। তিনি আরো জানান, তেল নিষ্কাশন যন্ত্রের অপ্রতুলতার কারণে সূর্যমুখীর আবাদে কৃষকদের আগ্রহ কিছুটা কম। পর্যাপ্ত পরিমাণে তেল নিষ্কাশন যন্ত্র সরবরাহ করতে পারলে এর আবাদ আরো বাড়বে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

