আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

শেষ মুহূর্তে হিসাব কষছেন ভোটাররা

মানিকগঞ্জের পুরোনো ঘাঁটি পুনরুদ্ধারে মরিয়া বিএনপি

জেলা প্রতিনিধি, মানিকগঞ্জ

মানিকগঞ্জের পুরোনো ঘাঁটি পুনরুদ্ধারে মরিয়া বিএনপি
ছবি: আমার দেশ

জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে মানিকগঞ্জের তিনটি সংসদীয় আসনে জমে উঠেছে ভোটের মাঠ। তাই শেষ মুহূর্তে ভোটের হিসাব কষতে শুরু করেছেন সাধারণ ভোটাররা। গ্রাম থেকে শহর, পাড়া থেকে মহল্লায়, দিনরাত প্রার্থীরা ছুটে চলার পরে এখন শেষ হয়েছে ভোটের প্রচারণা ।

উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা আর ভবিষ্যতের স্বপ্ন— সব মিলিয়ে প্রতিশ্রুতির ডালা সাজিয়ে এতদিন ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা করেছেন বেশ জোরেশোরেই। একসময় মানিকগঞ্জকে বলা হতো বিএনপির শক্ত ঘাঁটি। দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকার পর আসন্ন নির্বাচনে সেই পুরোনো অবস্থান পুনরুদ্ধারের স্বপ্ন দেখছেন দলটির নেতাকর্মীরা।

বিজ্ঞাপন

তবে এবারের নির্বাচনে দৃশ্যপট কিছুটা ভিন্ন। আওয়ামী লীগ নির্বাচনের বাইরে থাকায় বিএনপির প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে মাঠে সক্রিয় হয়ে উঠেছে ইসলামিক ঘরানার দলগুলো। ফলে তিনটি আসনেই ভিন্ন ভিন্ন সমীকরণে গড়াচ্ছে ভোটের লড়াই।

মানিকগঞ্জ-১ আসন

ঘিওর, দৌলতপুর ও শিবালয় উপজেলা নিয়ে গঠিত মানিকগঞ্জ-১ আসন। নদীবেষ্টিত এই আসনে মোট সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে মূল লড়াই ঘুরপাক খাচ্ছে তিনজনকে কেন্দ্র করে। বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এস এ জিন্নাহ কবীরের বিপরীতে মাঠে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবু বকর সিদ্দিক। অন্যদিকে বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী তোজাম্মেল হক তোজাও আলোচনায় রয়েছেন।

দলীয় প্রতীক ধানের শীষ ও সাংগঠনিক শক্তিকে ভরসা করে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী জিন্নাহ কবীরের সমর্থকরা। তবে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এখন প্রকাশ্য। বিএনপির একাংশ নেতাকর্মী স্বতন্ত্র প্রার্থী তোজার পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় ইতোমধ্যে প্রায় অর্ধশত নেতাকর্মীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এই বিভক্তিকে কাজে লাগিয়ে ভোটের ফল নিজের পক্ষে নেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছেন জামায়াত প্রার্থী আবু বকর সিদ্দিক। জেলার বাকি দুই আসনে জামায়াতের প্রার্থী না থাকায় জেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও এই আসনে সর্বশক্তি নিয়োগ করেছেন। ফলে এই আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস পাচ্ছেন সাধারণ ভোটাররা।

মানিকগঞ্জ-২ আসন

সিংগাইর, হরিরামপুর ও সদর উপজেলার দুটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত মানিকগঞ্জ-২ আসনে চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এখানে বিএনপির প্রার্থী সাবেক এমপি মইনুল ইসলাম খান শান্ত। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত জোট মনোনীত খেলাফত মজলিসের প্রার্থী শেখ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন।

এছাড়া ২০০৮ সালের মহাজোট সমর্থিত সাবেক এমপি জাতীয় পার্টির এস এম আব্দুল মান্নান লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন এত দিন। তবে বিএনপির দলীয় ঐক্য এবং শক্তিশালী কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীর অভাব এই আসনে শান্তকে অনেকটাই এগিয়ে রেখেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিএনপি কর্মী-সমর্থকদের ভাষায়, এটি যেন ‘ফাঁকা মাঠে গোল দেওয়ার’ মতো পরিস্থিতি। প্রচারণাতেও দেখা যাচ্ছে অনেকটা আত্মবিশ্বাসী বিএনপি নেতাকর্মীদের।

মানিকগঞ্জ-৩ আসন

সদর ও সাটুরিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত মানিকগঞ্জ-৩ আসনটি জেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আসন হিসেবে বিবেচিত। এখানে নয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও নির্বাচনী আমেজ তুলনামূলকভাবে কম।

এর প্রধান কারণ বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আফরোজা খানম রিতার গণজোয়ার। তার পক্ষে তৈরি হওয়া জনসমর্থনের ঢেউয়ে অন্য প্রার্থীরা অনেকটাই ম্লান। এমনকি বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীও ভোটের মাঠ গুছিয়ে উঠতে না পারায় তার কর্মীদের মধ্যেই হতাশা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর কোনো প্রার্থী না থাকলেও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সাইদ নূর রিক্সা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। তবে স্থানীয়ভাবে অপরিচিত হওয়ায় জামায়াত সমর্থকদের মাঝেও তাকে নিয়ে আগ্রহ কম বলে জানিয়েছেন ভোটাররা।

এই আসনে নারী ভোটারের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি হওয়ায় আফরোজা খানম রিতা বাড়তি সুবিধায় রয়েছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। নারী ও তরুণ ভোটারদের প্রাধান্য দিয়ে তিনি উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও নিরাপদ সমাজ গঠনের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। বিএনপির সিনিয়র নেতারাও এখন একাট্টা হয়ে ধানের শীষের পক্ষে মাঠে নামায় এই আসনে বিএনপির জয় প্রায় নিশ্চিত বলেই মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।

সব মিলিয়ে মানিকগঞ্জের তিনটি আসনেই ভিন্ন ভিন্ন চিত্র। কোথাও ত্রিমুখী লড়াই, কোথাও একচেটিয়া আধিপত্য, আবার কোথাও প্রায় একতরফা সমীকরণ। তবে শেষ সিদ্ধান্ত ভোটারদের হাতেই। কে হবেন মানিকগঞ্জের উন্নয়নের কান্ডারী-তার রায় মিলবে ভোটের বাক্স খুললেই।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...