শরীয়তপুর-২ (নড়িয়া–সখিপুর) আসনে ভোটগ্রহণ চলাকালে জাল ভোট দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে জীবন হোসেন নামে এক কিশোরকে আটক করা হয়। তবে আটকের কিছুক্ষণ পরই তাকে ‘মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত’ দাবি করে সাধারণ ক্ষমার মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনাকে ঘিরে কেন্দ্র এলাকায় সৃষ্টি হয় উত্তেজনা ও নানা প্রশ্ন।
ঘটনাটি ঘটে নড়িয়া বিহারীলাল সরকারি উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে। কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার এস এম মাসুদ কবির জানান, দুপুর সাড়ে তিনটার দিকে জীবন হোসেন নামে এক কিশোর জাল ভোট দেওয়ার চেষ্টা করে। দায়িত্বে থাকা পুলিশ ও আনসার সদস্যরা তাকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করেন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও সেনাবাহিনীকে অবহিত করা হয়। পরে সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।
আটকের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জীবনকে কেন্দ্রের সামনের মাঠে নিয়ে আসে। এ সময় উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীরা তাকে জিজ্ঞেস করলে সে দাবি করে, “আমি সকালবেলা ভোট দিয়েছি। এখন আমাকে বাইরে থেকে একজন ভোট দিতে পাঠিয়েছে।” তবে যিনি পাঠিয়েছেন, তাকে সে চেনে না বলে জানায়।
আরও জানতে চাইলে সে জানায়, তাকে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে ভোট দিতে বলা হয়েছিল।
এ সময় গলায় ধানের শীষের ব্যাজ পরা ৮–১০ জন বিএনপি কর্মী কেন্দ্র প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন। তাঁদের কয়েকজনকে বলতে শোনা যায়, ছেলেটি মানসিকভাবে অসুস্থ—তার কথায় যেন কেউ বিশ্বাস না করেন। একজন কর্মী জীবনকে উদ্দেশ করে বলেন, “তোমাকে যদি কেউ ভয় দেখিয়ে এ কথা বলায়, তাহলে সবাইকে জানাও।” পরে ওই পক্ষের একজন পুলিশকে অনুরোধ করেন, ছেলেটিকে ভেতরে বসিয়ে রাখতে; হ্যান্ডকাফ পরানোর প্রয়োজন নেই—বিষয়টি পরে দেখা হবে।
এর কিছুক্ষণ পর কেন্দ্রের বাইরে বিএনপি কর্মীদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যৌথবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে কেন্দ্রের বাইরে অবস্থান নেওয়া কর্মীদের লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দেন।
বিকেল সোয়া ৪টার দিকে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সুজন মিয়া কেন্দ্রে আসেন। পরে বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে তিনি বলেন, জাল ভোট দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে আটক ওই কিশোরকে সাধারণ ক্ষমা করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, সব এজেন্টের অনুরোধে জানা যায়, ছেলেটি মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত। তাই তাকে সাধারণ ক্ষমা করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
তবে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীদের অনেকের মতে, ছেলেটিকে দেখে মানসিকভাবে অসুস্থ বলে মনে হয়নি। ফলে জাল ভোটের অভিযোগে আটক একজনকে এত দ্রুত ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় ভোটারদের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি হয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ বলছেন, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে; আবার কেউ প্রশ্ন তুলছেন—জাল ভোটের চেষ্টার মতো গুরুতর অভিযোগে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে সাধারণ ক্ষমা দেওয়ার যৌক্তিকতা কতটুকু।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

