ঢাকার কেরানীগঞ্জে এনজিও থেকে ঋণ নেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মা ও মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। নিহতরা হলেন রোকেয়া রহমান (৩২) ও তার মেয়ে জোবাইদা রহমান ফাতেমা (১৪)। গত ২৫ ডিসেম্বর এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হলেও ঘটনাটি সামনে আসে গত বৃহস্পতিবার।
এ দীর্ঘ ২১ দিন লাশের সঙ্গেই বসবাস করেন হত্যাকারীরা। এ ঘটনায় জড়িত থাকায় গৃহশিক্ষিকা মীম আক্তার ও তার বোন নুসরাতকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি এম সাইফুল আলম গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
পুলিশ জানায়, একটি এনজিও থেকে দেড় লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন শিক্ষিকা মীম আক্তার। মৃত রোকেয়া রহমান ছিলেন এ ঋণের জামিনদার। নিয়মিত ঋণ পরিশোধ না করায় এনজিও কর্তৃপক্ষ জামিনদার রোকেয়াকে চাপ সৃষ্টি করত। এ ঘটনায় রোকেয়া রহমান ও শিক্ষিকা মীমের মধ্যে তর্কবিতর্ক হয়। পরবর্তী সময়ে গত ২৫ ডিসেম্বর বিকালে ওই বাসায় প্রাইভেট পড়তে যান সদ্য নবম শ্রেণিতে ওঠা ফাতেমা। সে সময় তাকে হত্যা করে মীম আক্তার ও তার বোন। পরে তার মাকে ফাতেমার অসুস্থতার কথা বলে ডেকে নিয়ে এসে তাকেও হত্যা করা হয়।
ঘটনার পর থেকেই তারা নিখোঁজ ছিলেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৭ ডিসেম্বর নিহত ফাতেমার বাবা শাহিন মিয়া কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরবর্তী সময়ে গত বৃহস্পতিবার স্থানীয়রা মীম আক্তারের বাসা থেকে দুর্গন্ধ ছড়ালে পুলিশকে খবর দেন। পরে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ এসে খাটের নিচ থেকে মা ও ওয়াশরুমের ছাদ থেকে মেয়ের লাশ উদ্ধার করে। লাশ দুটি স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রনি চৌধুরী বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গৃহশিক্ষিকা মীম, তার স্বামী হুমায়ূন ও বোনকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। পরে এ ঘটনায় করা মামলায় প্রাথমিক স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে মীম ও তার বোনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। মীম ও তার বোন স্বীকার করেন পূর্বশত্রুতার জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়।
শুক্রবার কালিন্দী ইউনিয়নের মুসলিমবাগ এলাকায় শামীম মিয়ার মালিকানাধীন পাঁচতলা ভবনে গিয়ে দেখা যায়, ভবন থেকে এখনো দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। বাড়ির মালিক শামীম জানায়, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তার স্ত্রী মিতু বেগম তাকে ফোন করে জানায় দ্বিতীয় তলার ভাড়াটিয়ার আচরণ অস্বাভাবিক লাগছে এবং ঘর থেকে প্রচণ্ড গন্ধ বের হচ্ছে। তখন তিনি ঘরের বাহির দিয়ে তালা লাগিয়ে দিতে বলেন। পরে তিনি বাসায় এসে পুলিশে খবর দিলে মডেল কেরানীগঞ্জ থানাপুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফ্ল্যাটের শয়নকক্ষে খাটের নিচ থেকে রোকেয়া এবং বাথরুমের ছাদ থেকে মেয়ে ফাতেমার লাশ উদ্ধার করে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

