নতুন করে কর বাড়ানোর ‍উদ্যোগ

নামেই ‘ক’ শ্রেণির পৌরসভা, সেবা না পেয়ে ক্ষুব্ধ মুন্সীগঞ্জবাসী

মাহবুবুর রহমান, মুন্সীগঞ্জ

নামেই ‘ক’ শ্রেণির পৌরসভা, সেবা না পেয়ে ক্ষুব্ধ মুন্সীগঞ্জবাসী

মুন্সীগঞ্জ পৌরসভা কাগজ-কলমে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত হলেও জনগণের চাহিদা অনুযায়ী সেবা দিতে পারছে না। পরিকল্পিত উন্নয়ন, আধুনিক সেবা ও নাগরিক সুবিধা দেওয়ার কথা থাকলেও সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মুন্সীগঞ্জ পৌরবাসীর ভোগান্তির মাত্রা বাড়ছে। পৌরসভার অন্তর্ভুক্ত জেলা শহরের প্রধান দুটি সড়কে তীব্র যানজট, জলাবদ্বতা, প্রতিটি ওয়ার্ডে ভাঙাচোরা অপ্রশস্ত রাস্তা, যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনার স্তূপ, শহরে প্রধান সড়কের উভয় পাশে ফুটপাত ও খালবিল, অবৈধ দখল, নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম না থাকা, পানি নিষ্কাশন উপযোগী খাল ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হওয়াসহ বিভিন্ন কারণে পৌরবাসী ব্যাপক সমস্যার সম্মুখীন।

এদিকে, নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে না পারলেও অতিসম্প্রতি বিদ্যমান পৌরকর কয়েকগুণ বৃদ্ধি করে নুতন করহার নির্ধারণ করায় পৌরবাসী বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন।

বিজ্ঞাপন

এছাড়া বিগত আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে দায়িত্ব পালনকারী মেয়রদের কর্মকাণ্ড সাধারণ জনগণ মেনে নিতে না পারায় ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পৌর ভবনে উত্তেজিত জনতা দফায় দফায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এতে পুরো ভবন ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় বর্তমানে সেবাপ্রত্যাশী জনগণকে পৃথক দুটি স্থান থেকে সেবা গ্রহণ করতে গিয়ে জটিলতা আরো বেড়েছে।

মুন্সীগঞ্জ শহরে উত্তর-দক্ষিণমুখী প্রধান দুটি সড়ক রয়েছে। জেলা শহরে চারটি কলেজ, ১০টি মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ কোর্ট-কাছারি, জেলা প্রশাসনে নানা প্রয়োজনে ছয়টি উপজেলা থেকে আসা মানুষ মূলত এ দুটি সড়ক ব্যবহার করে থাকেন। ফলশ্রুতিতে সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টা এবং বেলা ৩টা হতে বিকাল ৫টা পর্যন্ত যানজট লেগে থাকছে। ছোট্ট এ উপশহরে দুই হাজার ৯০০ অটোবাইক চলাচল করছে। এছাড়া অন্যান্য উপজেলা থেকে বিভিন্ন যানবাহন শহরে প্রবেশ করায় যানজটের তীব্রতা বাড়ছে।

১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত মুন্সীগঞ্জ পৌরসভায় ১২০ কিলোলোমিটার রাস্তার মধ্যে মাত্র ৬০ কিলোমিটার পাকারাস্তা রয়েছে। মুন্সীগঞ্জ সুপার মার্কেট থেকে মানিকপুর, জুবিলী সড়কসহ দেওভোগ-পারুলপাড়া, মানিকপুর-গণকপাড়া সড়কসহ বেশকিছু সড়কে ছোট-বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। ভাঙাচোরা রাস্তায় চলতে গিয়ে জনগণ চরম অস্বস্তিতে রয়েছে। প্রায় প্রতিদিন ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে।

জেলা শহরের অভ্যন্তরীণ প্রধান সড়কে পুরাতন বাসস্ট্য্যান্ড থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় পর্যন্ত সড়কের উভয় পাশে ফুটপাত এমনকি সড়কের অনেকটা জায়গা নিয়ে চার শতাধিক ব্যক্তি ফলমূল, ফাস্টফুড, রেডিমেড গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা পরিচালনা করছে। এতে সড়ক ব্যবহারকারীরা বিড়ম্ভনার সম্মুখীন হচ্ছেন। মুন্সীগঞ্জে এক সময় জুবিলী খাল, কাছারি চত্বর থেকে কোর্টগাঁও হয়ে পঞ্চসার, গণকপাড়া-দেওভোগ-শিলমন্দি, উত্তর ইসলামপুর-খালইস্ট-কলেজপাড়া হয়ে মুন্সীর হাট পর্যন্ত বেশকিছু খালের অস্তিত্ব ছিল। বিগত দুই দশকে প্রশাসনের নাকের ডগায় অবস্থিত এসব খালের অধিকাংশ ভরাট করে ফেলা হয়। এছাড়া নিচু জলাশয় ও পুকুর নির্বিচারে ভরাট করে বাড়িঘর নির্মাণ করায় পানি নিষ্কাশন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতে শহরের প্রায় পুরো এলাকায় পানি জমে যায়। এছাড়া পৌরসভার পক্ষ থেকে বিভিন্ন কারণে নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার না করায় জলজট দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিচ্ছে। এক সময় জুবিলী খাল সরকারি হরগঙ্গা কলেজের পাশ দিয়ে মুন্সীরহাট পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। পৌরসভার বরাদ্দকৃত টাকায় খালটির বৃহৎ অংশে ড্রেন নির্মাণ করায় এর অস্তিত্ব এখন নেই বললেই চলে।

পৌর এলাকার ৯টি ওয়ার্ডের সবকটি গ্রামে ময়লা সংগ্রহ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার আওতায় আসেনি। এতে অধিকাংশ বাড়ির নিত্যদিনের আবর্জনা কাছের জলাশয় কিংবা বাড়ির পাশে ফেলে রাখা হচ্ছে। এতে পরিবেশ যেমন হুমকির মুখে পড়ছে, অপরদিকে পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে।

মুন্সীগঞ্জ শহরের সামাজিক সংগঠন নাগরিক বন্ধুর আহ্বায়ক মাসুদ রানা আমার দেশকে বলেন, পৌরবাসী ন্যূনতম নাগরিক সেবা পাচ্ছে না। পৌরসভার নাগরিক সুবিধা না বাড়িয়ে করের বোঝা বাড়ানোর পাঁয়তারা করা হচ্ছে, যা কোনভাবেই বাস্তবায়ন করতে দেওয়া হবে না।

এ ব্যাপারে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আ. রব বলেন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকায় মুন্সীগঞ্জ পৌরসভায় উন্নয়নমূলক কাজ করতে বেগ পেতে হচ্ছে। এছাড়া পৌরসভার জনবল কাঠামোর অর্ধেকেরও কমসংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী বর্তমানে আছে। এর মধ্যে দক্ষ লোকেরও অভাব থাকায় সেবা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...