শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় একসঙ্গে ১৭টি তাজা হাতবোমা উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। শনিবার ভোরে উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের মুলাই বেপারীকান্দি এলাকার একটি জঙ্গল থেকে এসব হাতবোমা উদ্ধার করে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনী।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভোরের দিকে মুলাই বেপারী কান্দি এলাকার সিদম বেপারী নামের এক ব্যক্তির বাড়ির পেছনের জঙ্গলে সন্দেহজনক বস্তু পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা। কাছে গিয়ে দুটি বালতিতে রাখা একাধিক হাতবোমা দেখতে পেয়ে তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করেন।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যৌথ বাহিনী অভিযান চালায়। পরে জঙ্গল থেকে দুটি বালতিতে রাখা মোট ১৭টি তাজা হাতবোমা উদ্ধার করা হয়। সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে পুরো এলাকা ঘিরে রেখে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। তবে অভিযান চলাকালে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
এ ঘটনায় এলাকায় চরম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এক সঙ্গে এতগুলো হাতবোমা কী উদ্দেশ্যে সেখানে রাখা হয়েছিল—তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এসব বোমা মজুত করা হতে পারে।
জাজিরা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুস ছালাম বলেন, খবর পাওয়ার পর যৌথ বাহিনীর অভিযানে ১৭টি হাতবোমা উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কাউকে আটক করা যায়নি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্তে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, উদ্ধার করা হাতবোমাগুলো কারা ও কী উদ্দেশ্যে সেখানে রেখেছে—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এলাকাবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাজিরা উপজেলায় নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

