আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

টানা চার দিনের ছুটিতে

দৌলতদিয়া–পাটুরিয়া নৌপথে বাড়ি ফেরা মানুষের ঢল

উপজেলা প্রতিনিধি, (গোয়ালন্দ) রাজবাড়ী

দৌলতদিয়া–পাটুরিয়া নৌপথে বাড়ি ফেরা মানুষের ঢল

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে টানা চার দিনের ছুটিতে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে বাড়ি ফেরা মানুষের স্রোত দেখা গেছে দৌলতদিয়া–পাটুরিয়া নৌপথে।

দক্ষিণ–পশ্চিমাঞ্চলের অন্তত ২১ জেলার মানুষ কর্মস্থল ছেড়ে নিজ নিজ নির্বাচনি এলাকায় ফিরতে শুরু করেছেন। এতে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরি ও লঞ্চ ঘাট এলাকায় যাত্রীদের ব্যাপক ভিড় লক্ষ করা যায়।

বিজ্ঞাপন

সরজমিনে মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই দৌলতদিয়া প্রান্তে ফেরি ও লঞ্চ ঘাটে যাত্রীদের চাপ বাড়তে থাকে। পরিবহন বাস, লোকাল বাস, মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকারে করে যাত্রীরা এসে ফেরি ও লঞ্চে নৌপথ পার হচ্ছেন। অনেকেই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে বাড়ি ফিরছেন—যা ভোটাধিকার প্রয়োগে সাধারণ মানুষের আগ্রহ লক্ষ করা যায়।

কুষ্টিয়ার বাসিন্দা সামির আলী নিজের কর্মস্থল কুমিল্লা থেকে মোটরসাইকেলে ঝুঁকি নিয়ে শিশু সন্তান ও পরিবারসহ বাড়ি ফিরছিলেন। দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরি ঘাটে ফেরি থেকে নামার পর কথা হয় তার সাথে। তিনি আমার দেশকে বলেন, ভোটের কারণে দীর্ঘ ছুটি পেয়েছি। তাই বাড়ি যাচ্ছি। ভোট দিতে পারবো, পাশাপাশি আত্মীয়-স্বজনের সাথেও দেখা হবে। কষ্ট হলেও আনন্দ লাগছে। ভোট দেওয়া আমাদের নাগরিক দায়িত্ব। তিনি আরো জানান কাজের চাপ থাকলেও পরিবার নিয়ে কষ্ট করে হলেও ভোট দিতে যাচ্ছি।

তার মতো আরো অনেক ভোটার ঝুঁকি ও ভোগান্তি উপেক্ষা করে বাড়ি ফিরতে দেখা গেছে।

দৌলতদিয়া লঞ্চ ঘাটেও ছিল একই চিত্র। পাটুরিয়া থেকে ছেড়ে আসা ‘এমভি টুম্পা এক্সপ্রেস’ নামের একটি লঞ্চ ধারণক্ষমতার প্রায় তিনগুণ যাত্রী নিয়ে দৌলতদিয়া ঘাটে এসে ভিড়ে। লঞ্চ থেকে নেমে যাত্রীরা পায়ে হেঁটে দৌলতদিয়া টার্মিনালে গিয়ে বিভিন্ন যানবাহনে করে নিজ নিজ গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হন। রাজবাড়ী ছাড়াও খুলনা, যশোর, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, মাগুরা ও নড়াইলসহ দক্ষিণ–পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার যাত্রীরা এ নৌপথ ব্যবহার করছেন।

এদিকে দৌলতদিয়া ঘাট এলাকার একাধিক যাত্রী অভিযোগ করেন, ভিড়ের সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু ব্যক্তি অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের চেষ্টা করছে। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। ঘাট এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের টহল দিতে দেখা গেছে।

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস আমার দেশকে বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে মানুষের চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। যাত্রীসহ এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, নৌ-পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি ও আনসার-ভিডিপির সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে।

সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, এই বাড়তি চাপ ও ভিড় নির্বাচনী পরিবেশেরই অংশ। সরকারের এই দীর্ঘ ছুটির কারণে তারা আশা প্রকাশ করেন, ভোটের দিন শান্তিপূর্ণভাবে মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন