কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতারা পলাতক থাকায় আসন্ন সংসদ নির্বাচনের মাঠে তাদের দেখা যাচ্ছে না। দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করারও সুযোগ নেই। তবে ঠিকই বিভিন্ন ফন্দিতে দলটির বেশ কয়েকজন নেতা দেশের বিভিন্ন স্থানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। তাদের মধ্যে অন্যতম মানিকগঞ্জ-৩ (সদর ও সাটুরিয়া) আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া আওয়ামী লীগ নেতা ড. রফিকুল ইসলাম খান।
আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠের বাইরে থাকলেও মানিকগঞ্জের রাজনৈতিক বাস্তবতা যেন ভিন্ন বার্তা দিচ্ছে। দলীয় পরিচয় বদলে স্বতন্ত্র পরিচয়ে নির্বাচনি মাঠে সক্রিয় হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের মিশৌরি অঙ্গরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. রফিকুল। বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
গত ২৯ ডিসেম্বর জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন ড. রফিকুল। তার গ্রামের বাড়ি সাটুরিয়া উপজেলার দড়গ্রাম ইউনিয়নের নওগাঁও গ্রামে। এলাকায় তিনি আগে থেকেই আওয়ামী ক্যাডার হিসেবে পরিচিত।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ড. রফিকুল মিশৌরি অঙ্গরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। আগে বেশ কয়েকবার চেষ্টা করেও নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করতে পারেননি। এবারই প্রথম তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন।
স্থানীয়দের ধারণা, কার্যক্রম নিষিদ্ধ হলেও আওয়ামী লীগের একটি নির্দিষ্ট ভোটব্যাংক এখনো সক্রিয়। সে ভোট লক্ষ্য করেই ড. রফিকুল খোলস পাল্টে নির্বাচনি মাঠে নেমেছেন। প্রকাশ্যে দলীয় পরিচয় ব্যবহার না করলেও নেপথ্যে সংগঠন ও সমর্থকদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখছেন তিনি।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগ ঘরানার বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক ও দেনদরবার শুরু করেছেন ড. রফিকুল। এসব বৈঠকের উদ্দেশ্য আসন্ন নির্বাচনে সমর্থন নিশ্চিত করা।
এর আগে একাদশ ও দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন ড. রফিকুল। সে সময় তিনি দলের মনোনয়নপত্র কিনে দাখিলও করেন। তবে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের প্রভাব ও রাজনৈতিক চাপে শেষ পর্যন্ত মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন তিনি।
সাটুরিয়া উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে একটি কথা প্রচলিত আছেÑআওয়ামী লীগের হাইকমান্ডের সঙ্গে ড. রফিকুলের ঘনিষ্ঠ ও সুসম্পর্ক ছিল। ওই সম্পর্কের সুবাদেই তিনি একসময় আওয়ামী লীগের টিকিটে সংসদ সদস্য হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন।
নির্বাচনি মাঠে আওয়ামী লীগের তকমা ঝেড়ে ফেলে তিনি এখন গরিবের বন্ধু পরিচয়ে প্রচার চালাচ্ছেন। একই সঙ্গে আওয়ামী ঘরানার ভোটব্যাংক পুনরুদ্ধারে নীরব দেনদরবারও চলছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। যেসব নেতাকর্মী এলাকা ছেড়ে পলাতক, তাদের আত্মীয়স্বজনদের মাধ্যমে গোপন যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে হিন্দু সম্প্রদায়ের একাধিক নীতিনির্ধারক ও প্রভাবশালী নেতৃস্থানীয় ব্যক্তির সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন তিনি। এছাড়া মানিকগঞ্জ শহরের কয়েকজন আইনজীবী, পূজা উদযাপন পরিষদের একাধিক সাবেক নেতা এবং স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচনে নেপথ্যে থেকে প্রভাব বিস্তারকারী বেশ কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গেও তার নিয়মিত যোগাযোগ আছে।
আওয়ামী আমলে শেখ হাসিনার সঙ্গে আমেরিকা প্রবাসী আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে ড. রফিকুলের ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয়টি জেলা ও সাটুরিয়া উপজেলা পর্যায়ের অধিকাংশ নেতাকর্মী অবগত।
জানা গেছে, রফিকুলের ব্যক্তিগত ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজের অ্যালবামে তার সঙ্গে সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনিসহ বিভিন্ন প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতার ছবি এখনো বিদ্যমান। তিনি তার ফেসবুক পেজে আপলোড করা এক পোস্টারে দাবি করেছেন, আসুন সম্ভাবনার পথে চলি; আপস নয়, অন্যায় ও অপশক্তির বিরুদ্ধে সংগ্রাম করাই রাজনীতিÑড. রফিক খান। আসুন দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ি!
আমেরিকায় থাকতে সেখানকার দলীয় সভাপতি ছিলেন বলে স্বীকার করে ড. রফিকুল বলেন, দেশে ফিরে ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়ে নির্বাচন করতে গিয়ে সফলতা না পেয়ে এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন তিনি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

