জুলাই আন্দোলনে ৫ আগস্ট ঢাকার আশুলিয়া থানায় লাশ পোড়ানোর মামলার রায়ে মাদারীপুরের রাজৈরের বাসিন্দা কনস্টেবল মুকল চোকদারের (৩২) মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এই রায়ে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ করেছে মুকুলের পরিবার ও এলাকাবাসী। মুকুল রাজৈর পৌর এলাকার মৃত বাবুল চোকদারের ছেলে।
শনিবার সকালে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার শাফিয়া শরীফ বাজারে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন ও প্রতিবাদ করেন এলাকাবাসী। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন এবং মৃত্যুদণ্ডের রায় পুনঃতদন্তের আহ্বান জানান।
মানববন্ধনে মুকুলের মা পিনজিরা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলের মুক্তি চাই আমি, আমি এই ফাঁসি মানি না। আমার ছেলের ক্যান ফাঁসি হবে? আমার স্বামী নাই, ছেলেডা নইয়া আমি কষ্ট কইরা পড়ালেহা করাইয়া চাকরি দিছি বাবা। আমি গরিব, আমার মতো এত গবিব নাই। আমি টাহা দেতে পারি নাই দেইক্কা আজকে আমার ছেলের এই অবস্থা। আর যারা টাহা দেতে পারছে, তাগো হয় জেল, ওসির হয় সাত বছর জেল আর আমার ছেলে টাহা দেতে পারে নাই, তার দেয় ফাঁসি।’
মুকুলের স্ত্রী সুমাইয়া বেগম বলেন, ‘সে ওই সময় শুধু ওইখানে দারাইয়া ছিল তার এমন কোনো ভিডিও ফুটেজে তাকে কোথাও দেখা য়ায়নি। তার সুষ্ঠু কোনো তদন্ত হয় নাই। ওখানে যারা এসপি-ডিসি বা উপরপোস্টে ছিল, তারা অনেক টাকা খাওয়াইছে, যারা খাওয়ানোর মাধ্যমে তারা এইভাবে চইলা যাইতে পারছে, তাদের কোনো বিচার হয়নাই। আর আমার স্বামী একজন সাধারণ কনস্টেবল, তার নাই কিছু, সে একজন এতিম ছেলে, তার একটা ভাই নাই, তার কোনো কিছুই নাই, সে এতিম, তারা যে এইভাবে তারে শাস্তি দিল, নিরিহভাবে তারে কেন এইভাবে ফাঁসির রায় দিল? তার উপরে যারা ছিল, তাদের পাঁচ-সাত বছরের জেল দিল। আমি এই রায় মানি না, আমি চাই এইডার সুষ্ঠু বিচার হউক, সুষ্ঠুভাবে এইডার তদন্ত কইরা সুষ্ঠু একটা রায় যেন দেয় তারা।’
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

