জীবদ্দশায় বিচার দেখতে চান স্বজনরা

নারায়ণগঞ্জের সাত খুন মামলার রায় দ্রুত কার্যকরের দাবি

উপজেলা প্রতিনিধি, সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ)

নারায়ণগঞ্জের সাত খুন মামলার রায় দ্রুত কার্যকরের দাবি
সিদ্ধিরগঞ্জের মৌচাক ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মানববন্ধন কর্মসূচির মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলার রায় দ্রুত কার্যকরের দাবি জানায় নিহতদের স্বজন ও এলাকাবাসী। ছাবি: আমার দেশ

নারায়ণগঞ্জে আলোচিত সাত খুন মামলার রায় দ্রুত কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন নিহতদের স্বজন ও এলাকাবাসী। সোমবার বেলা ১১টায় সিদ্ধিরগঞ্জের মৌচাক ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে তারা এ দাবি জানান।

মানববন্ধনে অংশ নিয়ে খুন হওয়া নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি বলেন, নূর হোসেন নামের এক মাফিয়া কীভাবে টাকার প্রভাবে র‍্যাব সদস্যদের ব্যবহার করে অমানবিক নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যা করে মরদেহ শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে দিয়েছিল সেই দৃশ্য দেখে সারা দেশের মানুষ কেঁদেছিল। পুরো জাতি তখন আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

আজ হয়তো ভয়-ভীতি, মামলা ও আতঙ্কের কারণে অনেকেই সামনে আসতে সাহস পান না। কিন্তু আমরা তো আমাদের আপনজন হারিয়েছি। আমরা পরিবারগুলো ১২ বছর ধরে বুকভরা কান্না আর অসহনীয় কষ্ট নিয়ে বেঁচে আছি। আমাদের একটাই দাবি নজরুল সাহেবসহ সাত পরিবারের এই নির্মম হত্যার বিচার যেন আমরা জীবিত অবস্থায় দেখে যেতে পারি।

আমরা জানতে চাই, কেন র‍্যাব সদস্যরা নূর হোসেনের কথায় এত ভয়ংকর হত্যাকাণ্ড ঘটালো? কেন সাতটি পরিবারকে ধ্বংস করে দিল? যদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছেই মানুষ নিরাপত্তা না পায়, তাহলে মানুষ কার কাছে যাবে? র‍্যাবের ওপর যে কলঙ্কের দাগ লেগেছে, তা মুছতে হলে এই মামলার বিচার দ্রুত কার্যকর করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, সেই সময় বেগম খালেদা জিয়া এসেছিলেন এবং বলেছিলেন বিএনপি ক্ষমতায় এলে এই হত্যার বিচার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করা হবে। এখন আমরা আশা করি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবেন এবং সাতটি পরিবারের পাশে দাঁড়াবেন।

আমরা অ্যাটর্নি জেনারেল, আইনমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট সকল দায়িত্বশীল কর্মকর্তার প্রতি আহ্বান জানাই তারা যেন এই মামলার রায়ের দিকে বিশেষ দৃষ্টি দেন এবং দ্রুত কার্যকরের ব্যবস্থা করেন। ২০২৬ সালের মধ্যেই এই রায় কার্যকর হবে বলে আমরা আশা করি।

মৃত জাহাঙ্গীরের স্ত্রী সামছুন নাহার নুপুর বলেন, ১২ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো এই হত্যাকাণ্ডের ফাঁসির রায় কার্যকর হয়নি। আমি চাই, দ্রুত সেই রায় কার্যকর করা হোক।

যখন আমার স্বামীকে হত্যা করা হয়, তখন আমার সন্তান মাত্র সাত মাসের ছিল। আজ সে বড় হচ্ছে, বাবাকে খোঁজে। কিন্তু আমি তাকে তার বাবাকে ফিরিয়ে দিতে পারি না। একজন সন্তান যখন ‘বাবা, বাবা’ বলে ডাকে, তখন আমার বুকটা ভেঙে যায়। আমি আমার সন্তানের জন্য একটি নিরাপদ ও নিশ্চিত ভবিষ্যৎ চাই। আমাদের দায়িত্ব নেওয়ার মতোও কেউ নেই। আমি একজন মা হয়ে সবকিছু সামলাতে হিমশিম খাচ্ছি।

এই হত্যাকাণ্ডে শুধু সাতজন মানুষ মারা যাননি, ধ্বংস হয়েছে সাতটি পরিবার। কেউ বাবা হারিয়েছে, কেউ ভাই, কেউ সন্তান, আর আমি হারিয়েছি আমার স্বামী। নিহতদের পরিবারগুলো আজও অসহায় কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। যারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তারা আজও বেঁচে আছে, ভালোভাবে দিন কাটাচ্ছে। অথচ সাতটি তরতাজা প্রাণ নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এটা ভাবলে বুক ফেটে যায়।

নিহত তাজুল ইসলামের পিতা আবুল খায়ের বলেন, সাড়ে আট বছরের মতো এখনো সে মামলাটি আপিল বিভাগে ঝুলে আছে এবং কেন সে মামলাটি আপিল বিভাগে ঝুলে আছে তা আমাদের বোধগম্য নয়। আমরা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিকে তাকিয়ে আছি। তার মায়ের ওয়াদা তিনি পূরণ করবেন বলে আমরা আশাবাদী।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক সড়ক থেকে তৎকালীন প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন কুমার সরকারসহ মোট সাতজনকে গুম করা হয়। তিন দিন পর নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদী থেকে নিখোঁজদের লাশ ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি ও চন্দন কুমার সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পাল দুটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এসব মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া বর্তমানে আপিল বিভাগে চলমান রয়েছে।

এআরবি

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...