বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ঝিনাইদহ-২ (হরিণাকুণ্ডু–ঝিনাইদহ) আসনে আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের গণসংযোগ বেশ জমে উঠেছে।
মাঠ পর্যায়ের প্রচার-প্রচারণার অংশ হিসেবে প্রার্থীদের পোস্টার ও ব্যানারে এলাকার হাট-বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো ছেয়ে গেছে।
গেল কোরবানির ঈদের আগে ও পরে নেতাকর্মীদের জমজমাট পদচারণায় মুখর ছিল এই আসনের প্রতিটি গ্রাম, পাড়া-মহল্লা। এলাকায় পারিবারিক বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সম্ভাব্য প্রার্থীরা নির্বাচনি মাঠে অবস্থানের জানান দিচ্ছেন। পাশাপাশি এলাকার বিভিন্ন সমস্যার সমাধান ও উন্নয়নের আগাম প্রতিশ্রুতিও দিচ্ছেন।
প্রার্থীরা তাদের সমর্থকদের নিয়ে সভা-সমাবেশ ও মিটিং-মিছিলে এলাকা মুখরিত করছেন।
বিশেষ করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী ফ্রেবুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হবে এমন আভাস পেয়ে প্রার্থীরা মানুষের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। নতুন প্রজন্মের তরুণ ভোটারদের টার্গেট করে অনেকেই নির্বাচনি প্রচারণাকে সাজাচ্ছেন এমনটাই এলাকা ঘুরে দেখা গেছে।
ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার ১৫ বছর শাসনামলে এলাকার ভোটাররা সঠিকভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারা স্বাধীনভাবে সৎ, যোগ্য, দেশপ্রেমিক ও দুর্নীতিমুক্ত প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করতে চাচ্ছেন।
এক সময় এ এলাকা বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক উপদেষ্টা মরহুম মসিউর রহমান ৯১, ৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে এ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন।
মসিউর রহমান তার নির্বাচনি এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার আমুল পরিবর্তন করেন। ঝিনাইদহ ও হরিণাকুণ্ডু উপজেলার প্রত্যেক পিচঢালা রাস্তাঘাট, ব্রিজ, কালভার্টে তার ছোঁয়া লেগে আছে। তিনি গ্রামের প্রধান সড়ক এমনকি শাখা-উপশাখা রাস্তাগুলো পাকা করেন। ঝিনাইদহ ও হরিণাকুণ্ডু উপজেলার সব নদী-খালের ওপর ছোট-বড় ব্রিজ এবং কালভার্ট নির্মাণ করেন। যাত্রীছাউনি নির্মাণ, বাজার ও হাটে চান্দিনা নির্মাণ, ঝিনাইদহ বাইপাস সড়ক নির্মাণসহ যোগাযোগ ব্যবস্থার অভূতপূর্ব উন্নয়ন করেছেন।
২০০৮ সাল থেকে এ আসন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দখলে চলে যায়। গত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ ডামি নির্বাচনে ঈগল প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী নাসের শাহরিয়ার জাহেদী মহুল নির্বাচিত হয়েছিলেন।
আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে বিএনপি থেকে দুই জন প্রার্থী হতে আগ্রহী। একজন বিএনপির সাবেক সাবেক সংসদ সদস্য ও হুইপ মরহুম মসিউর রহমানের ছেলে ডা. ইব্রাহীম রহমান বাবু। তিনি তার নিজের কর্মকাণ্ড ও বাবার করা উন্নয়নের অধ্যায়কে কাজে লাগিয়ে এ আসনে বিজয়ী হতে চান। তিনি আমার দেশকে বলেন, আমার বাবা এ এলাকায় বিএনপিকে সুসংগঠিত করে তিনবার নির্বাচিত হয়েছিলেন। এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছিলেন। আমিও বাবার মতো বিএনপির রাজনীতি করছি। এলাকার মানুষের জন্য কাজ করছি। আশা করি দল আমাকে মনোনয়ন দেবে।
অপরজন বিএনপির জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ। তিনি বলেন, পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের আমলে জেল-জুলুম খেটেও সংগঠনকে আগলে রাখার চেষ্টা করেছি। আশা করি এসব বিবেচনায় নিয়ে দল আমাকেই মনোনয়ন দেবে।
এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর একক প্রার্থী ঝিনাইদহের জেলা আমির অধ্যাপক আবুবকর মো. আলী আজম।
ত্রয়োদশ জতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে দল তাকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে। সৎ ও মানব দরদি মানুষ হিসেবে এলাকায় তিনি খুবই জনপ্রিয়।
এ ছাড়াও গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান এ আসন থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একজন প্রার্থী। তিনি নিয়মিত নির্বাচনি এলাকায় গণসংযোগ করে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। রাশেদ খান জানান, আগামী নির্বাচনে তিনি এ আসনে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী।
৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বিএনপির একশ্রেণির নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ উঠায় এ নির্বাচনি এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে কিছুটা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে বিএনপির জনপ্রিয়তা কিছুটা কমেছে। তবে এলাকার সাধারণ মানুষ ও ভোটারদের ধারণা তার পরও এ আসনে নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে জামায়াত ও বিএনপির প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি ভোটযুদ্ধে লড়াই হবে। ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন, একটি পৌরসভা এবং হরিণাকুণ্ডু উপজেলার আটটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে ঝিনাইদহ-২ নির্বাচনি আসন গঠিত।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

