সুন্দরবনে মুক্তিপণের দাবিতে অপহৃত রিসোর্ট মালিকসহ দুই পর্যটককে উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। রোববার গভীর রাতে উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ ও বাংলাদেশ কোস্টগার্ড সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া তিনজন বর্তমানে সুস্থ রয়েছেন। তবে অপহরণের মতো স্পর্শকাতর ঘটনায় দস্যুরা কীভাবে দিনের আলোতে পর্যটকদের জিম্মি করে নিয়ে গেল—তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।
দাকোপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুর রহমান বলেন, সুন্দরবনের ভেতর থেকে অপহৃত রিসোর্ট মালিক ও দুই পর্যটককে উদ্ধার করা হয়েছে। তারা নিরাপদ ও সুস্থ রয়েছেন। সোমবার কোস্টগার্ড এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করবে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২ জানুয়ারি দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে ঢাকা থেকে আসা পাঁচ পর্যটক খুলনার দাকোপ উপজেলার ঢাংমারী এলাকার ‘গোল কানন’ রিসোর্টে অবস্থান করেন। বিকেলে তারা রিসোর্ট মালিকের সঙ্গে সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের আওতাধীন এলাকায় নৌভ্রমণে বের হন।
ভ্রমণের একপর্যায়ে সুন্দরবনের কানুরখোলা খাল এলাকায় কুখ্যাত বনদস্যু মাসুম বাহিনী তাদের নৌকা গতিরোধ করে। অস্ত্রের মুখে পাঁচ পর্যটক ও রিসোর্ট মালিককে জিম্মি করে দস্যুরা অপহরণ করে নিয়ে যায়—যা সুন্দরবনে নিরাপত্তা ব্যবস্থার চরম দুর্বলতাকেই সামনে আনে।
পরবর্তীতে বনদস্যুরা দুই নারী পর্যটক ও নৌকার দুই মাঝিকে ছেড়ে দিলেও রিসোর্ট মালিক শ্রীপতি বাছাড় এবং পর্যটক সোহেল ও জনিকে মুক্তিপণের দাবিতে আটক করে রাখে। এই ঘটনায় দাকোপ-মোংলা অঞ্চলে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন ব্যবসায় ধস নামার আশঙ্কা দেখা দেয়।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পর্যটন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বনদস্যু নির্মূলে দৃশ্যমান কঠোর পদক্ষেপ না নিলে সুন্দরবনের পর্যটন খাত চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অপহরণকারী বনদস্যুদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সুন্দরবনের মতো সংরক্ষিত ও আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বনাঞ্চলে একের পর এক অপহরণ ও দস্যুতার ঘটনা প্রমাণ করে—আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় শুধু তাৎক্ষণিক অভিযান নয়, প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি ও কঠোর নিরাপত্তা কৌশল।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

