সাতক্ষীরা সদর উপজেলার সীমান্তবর্তী লক্ষ্মীদারি গ্রামে অন্তঃসত্ত্বা এক স্ত্রীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার রাত ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন তার স্বামী।
মৃত তাসলিমা খাতুন (৩৬) দেবহাটা উপজেলার বহেরা গ্রামের নুরুজ্জামান ও ফাতেমা খাতুন দম্পতির মেয়ে। তার দুটি সন্তান রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত সাদ্দাম হোসেন মোড়ল যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বেনাপোল এলাকার লোকমান হোসেন মোড়লের ছেলে। প্রায় ১৫ থেকে ১৬ বছর আগে তাসলিমার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। দীর্ঘদিন ধরে তারা সাতক্ষীরা সদর উপজেলার লক্ষ্মীদারি গ্রামে সাদ্দামের প্রয়াত নানা মোহাম্মদ গাজীর বাড়িতে বসবাস করছিলেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য সন্তোষ কুমার ঘোষ জানান, সাদ্দাম দীর্ঘদিন ধরে বেকার ছিলেন। অভাব-অনটনের মধ্যে কিছুদিন আগে তাসলিমা তার বাবার বাড়ি থেকে একটি ছাগল এনে পালন শুরু করেন। অভিযোগ রয়েছে, সাদ্দাম ওই ছাগলটি চুরি করে বিক্রি করে দেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে কলহ চলছিল।
তিনি আরো জানান, শনিবার রাতে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সাদ্দাম প্রথমে হাতুড়ি দিয়ে তাসলিমার মাথায় আঘাত করেন। এতে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেললে পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার গলা কেটে হত্যা করে পালিয়ে যান। খবর পেয়ে রাত পৌনে ১২টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে।
সদর থানার ওসি মো. মাসুদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ৯৯৯ থেকে খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে যাই। লাশ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। সাদ্দাম হোসেনকে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
জেডএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

