খাল খনন শেষে কোষাগারে কোটি টাকা ফেরত দিলেন দুই ইউএনও

খাল খনন শেষে কোষাগারে কোটি টাকা ফেরত দিলেন দুই ইউএনও

প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অগ্রাধিকার ভিত্তিক প্রকল্পের ১ কোটি ৮০ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত পাঠিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান ও সদরপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ শাওন।

বিজ্ঞাপন

বিষয়টি দৈনিক আমার দেশ পত্রিকা প্রতিনিধিকে সোমবার রাতে নিশ্চিত করেন ভাঙ্গা ও সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

উপজেলা প্রশাসন ও প্রকল্প বাস্তবায়ন (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ অগ্রাধিকার খাল খনন কর্মসূচি প্রকল্পের আওতায় গত ফেব্রুয়ারি মাসের ৪ তারিখে ভাঙ্গা উপজেলার ঘারুয়া ইউনিয়নের শরিফাবাদ হালান ফকিরের বাড়ি সংলগ্ন থেকে খারদিয়া হয়ে শাহজাহান শেখের বাড়ি পর্যন্ত ও সেখান থেকে কুমার নদী পর্যন্ত ৬ কিলো মিটার এবং মানিকদাহ ইউনিয়নের বলেরবাগ থেকে সোনাখোলা পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার খাল পুনঃ খননের আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু করা হয়। ঘারুয়া ও মানিকদহ ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন দুটি মৃত খাল পুনঃ খননের জন্য উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তার কার্যালয়ের অধীনে তিন কোটি ৬০ লাখ ৪৭ হসজার ৭৭৫ টাকা সরকারি বরাদ্দ পাওয়া যায়। একইভাবে সদরপুর উপজেলার চারটি খাল পুনঃ খননের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় দুই কোটি ১৮ লাখ ৯৪ হাজার ৮০৪ টাকা।

ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার ইসমাইল জবি উল্লাহ ও ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম খান বাবুল পুনঃ খাল খনন কাজের আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন করার মধ্যে দিয়ে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনকালে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার প্রশংসা করেন।

দুটি উপজেলায় খালগুলোর সিংহভাগ খনন কাজ চলতে থাকলেও জুন ও জুলাই মাসের অনাবৃষ্টিতে খালগুলো পানিতে তলিয়ে যায়। এজন্য খনন কাজে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হলে খনন কাজগুলো সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।

পৃথক দুটো উপজেলার খালগুলো খননের কাজ যথাযথ সম্পন্ন না হওয়ায় সরকারি বরাদ্দকৃত অর্থের মধ্যে ভাঙ্গা উপজেলা থেকে ৬৪ লাখ ৩৯ হাজার ৯১৬ টাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরকারি কোষাগারে ফেরত পাঠিয়েছেন। অনুরূপভাবে সদরপুরের চারটি খাল খননের বরাদ্দকৃত অর্থের ৩৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত পাঠিয়েছেন সদরপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

সরকারি কাজের জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতায় ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহামুদুল হাসান ও সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ শাওন স্থানীয় জনগণের কাছে প্রশংসায় ভাসছেন।

ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান জানান, ভাঙ্গায় তিনটি খাল খননের জন্য তিন কোটি ৬০ লাখ ৪৭ হাজার ৭৭৫ টাকা বরাদ্দের মধ্যে ৬৪ লাখ ৩৯ হাজার ৯১৬ টাকা তিনি সরকারি কোষাগারে ফেরত পাঠিয়েছেন।

স্থানীয় সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম খান বাবুল এমপি বলেন, বিএনপির সরকার স্বচ্ছতার ভিত্তিতে জণগণের জবাবদিহি মূলক সরকার বিধায় দুজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি তাদের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন