চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র আ জ ম নাছিরদের মতো আওয়ামী গণহত্যার দোসরদের হন্যে হয়ে খুঁজছেন যৌথবাহিনীর সদস্যরা। এ নাছিরের আস্থাভাজন ছিলেন ২৪তম বিসিএসের কর্মকর্তা মুফিদুল আলম। বিশ্বস্ত ও দলের প্রতি আনুগত্যশীল হিসেবে তাকে একান্ত সচিবের দায়িত্বও দিয়েছিলেন সাবেক মেয়র। পরে তার আশীর্বাদেই জেলা প্রশাসক হন মুফিদুল। দীর্ঘদিন সেবা দিয়েছেন পতিত স্বৈরাচারের হাতিয়ার হিসেবে, বেশভূশা পরিবর্তন করে সেই দাপট অব্যাহত রেখেছেন পরিবর্তিত বাংলাদেশেও।
জানা গেছে, ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মুফিদুল আলমের বাড়ি চট্টগ্রামে। তিনি যখন মেয়র নাছিরের একান্ত সচিব হয়েছিলেন, তখন বিভিন্ন গণমাধ্যমে তার সাফল্য নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হয়েছিল। খবরে বলা হয়েছিল, আওয়ামী ঘরানার এ কর্মকর্তার যথাযথ মূল্যায়ন হয়েছে, তার ভাই সোহরাব হোসেন (বাপ্পী) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের দাপুটে নেতা ছিলেন। সেই থেকে তার বেপরোয়া জীবন শুরু। ছাত্রলীগের ক্যাডার পরিচয়ে বেশ কয়েকটি পদোন্নতিও নিয়েছেন মুফিদুল। কর্মজীবনে সাংবাদিকদের মূল্যায়ন না করা, বিভিন্ন অনিয়মসহ নানা অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সর্বশেষ গতকাল বুধবার তিনি সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এম আব্দুল্লাহর সঙ্গে অসৌজন্য আচরণ করেছেন।
স্থানীয় সাংবাদিকরা জানান, বুধবার সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের উদ্যোগে ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসকের হলরুমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃত্তি বিতরণ অনুষ্ঠান ছিল। মুফিদুলের সম্মতিতে সরকারি অনুষ্ঠান হিসেবে দুপুর ১২টায় সময় নির্ধারণ করে কল্যাণ ট্রাস্টের পক্ষ থেকে অফিসিয়ালি কর্মসূচির বিস্তারিত আগেই জেলা প্রশাসককে জানানো হয়। এর পরও তিনি সেই হলরুমে অনুষ্ঠান করতে দেননি, এমনকি তার কক্ষে দীর্ঘসময় অপেক্ষা করলেও কল্যাণ ট্রাস্টের এমডি এম আব্দুল্লাহর সঙ্গে দেখা পর্যন্ত করেননি মুফিদুল।

তারা আরো জানান, জেলা প্রশাসকের অসহযোগিতায় হলরুমে অনুষ্ঠান করতে না পেরে কার্যালয়ের বাইরে রোদে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের সন্তানদের মধ্যে বৃত্তির চেক বিতরণ করা হয়। ডিসির এমন শৃঙ্খলা ও সভ্যতা-ভব্যতা পরিপন্থী আচরণের তীব্র নিন্দা জানান উপস্থিত সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীরা। পুরো সাংবাদিক সমাজে বিরাজ করছে ক্ষোভ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিএফইউজের সহসভাপতি ও দৈনিক নয়া দিগন্তের যুগ্ম বার্তা সম্পাদক মুহাম্মদ খায়রুল বাশার, ময়মনসিংহ প্রেস ক্লাবের সহসভাপতি নওয়াব আলীসহ সাংবাদিকদের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এ ঘটনা অত্যন্ত লজ্জাজনক। সারাদেশে ‘ডেভিল হান্ট অভিযান’ পরিচালনার আগে প্রশাসনের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা 'ডেভিলদের' বিরুদ্ধে আগে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল।
অনুষ্ঠানে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করে এম আবদুল্লাহ বলেন, ‘রাষ্ট্রীয়ভাবে সাংবাদিক সন্তানদের শিক্ষাসহায়তা দেওয়া হয়, কিন্তু ময়মনসিংহে এসে আমরা ভিন্ন অভিজ্ঞতা পেলাম। সরকারি একটি অনুষ্ঠানে ডিসির এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন কাণ্ড ও অসৌজন্যমূলক আচরণ দুর্ভাগ্যজনক। জেলা প্রশাসকরা নিজেদের এখনো রাজা ভেবে অন্যদের প্রজা মনে করলে তা হবে জুলাই বিপ্লবের চেতনা পরিপন্থী।
তিনি আরো বলেন, ‘আজ যারা চেক পেয়েছেন, আগামী দিনে তারা ভালো ফলাফল করে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টে জমা দিলে তাদের জন্য এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে, ফলাফল ভালো হলে মাস্টার্স পর্যন্ত চলবে। এ ছাড়া সাংবাদিকদের জন্য ইফতার উপহারের প্রস্তুতি চলছে, ছোট আকারে তালিকা পেলে ইফতার পৌঁছানোর চেষ্টা করা হবে। এর বাইরেও সাংবাদিকদের নানা সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা আছে, যথাযথভাবে আবেদন করলে বিবেচনা করা হবে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে জেলা প্রশাসক মুফিদুলের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। এটি তার নিয়মিত আচরণ। এ কারণে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

