জামালপুরের সরিষাবাড়ী পৌর এলাকার ঝিনাই ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল বিক্রিকে কেন্দ্র করে হট্টগোল, হাতাহাতি ও বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি সিন্ডিকেটের দাপটে সাধারণ বাইকার ও জরুরি সেবায় নিয়োজিত কর্মীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন।
বুধবার রাতে ফিলিং স্টেশনটিতে বিক্ষোভ ও প্রধান সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনার নেপথ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত এক সাবেক ছাত্রলীগ নেতার ইন্ধনের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় উত্তেজিত জনতার কারণে ফিলিং স্টেশনের কর্মচারীরা প্রায় দেড় ঘণ্টা অফিসকক্ষে অবস্থান করেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সকাল থেকেই স্টেশনটিতে তেল নিতে দীর্ঘ লাইন পড়ে। সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত তেল বিতরণ করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, সরিষাবাড়ী পৌর ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক আহমেদ তেল বিতরণে ‘সহযোগিতার’ নামে দীর্ঘ সময় ডিসপেনসার মেশিনের পাশে অবস্থান করেন।
স্থানীয়দের দাবি, তিনি সাংবাদিক, শিক্ষক ও জরুরি সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের তেল নিতে বাধাগ্রস্ত করেন এবং অসদাচরণ করেন। সন্ধ্যার পর তিনি বাইকারদের বিক্ষোভে অংশ নিতে উসকানি দেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার রফিকুল ইসলাম বলেন, “সকাল ৮টা থেকে তেল বিতরণ শুরু হয়। প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী নিরাপত্তার স্বার্থে সন্ধ্যা ৬টার দিকে তেল দেওয়া বন্ধ করা হয়। এরপর কিছু লোকজন পাম্পের সামনে ভিড় করে হট্টগোল শুরু করে এবং একপর্যায়ে সড়ক অবরোধ করে। আমরা প্রায় এক ঘণ্টার বেশি সময় অফিসকক্ষে অবস্থান করি। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।”
স্টেশনের স্বত্বাধিকারী আলহাজ তুহিন তালুকদার বলেন, “স্টেশনে পর্যাপ্ত তেলের মজুদ রয়েছে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক। তবে সুশৃঙ্খলভাবে বিতরণ করা যাচ্ছে না। এসএসসি পরীক্ষা ও সড়কে যানজটের বিষয় বিবেচনায় সপ্তাহে তিন দিন তেল বিতরণ করা হচ্ছে। কিছু মানুষের অসহযোগিতার কারণে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।”
অভিযুক্ত ব্যক্তির বিষয়ে তিনি বলেন, “তেল নেওয়ার সময় অনেকেই ভিড় করেন। কে কোন পদে আছেন, তা যাচাই করা সম্ভব হয় না। ব্যক্তিগতভাবে আমি তাকে তেমন চিনি না।”
তবে স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, অভিযুক্ত ফারুক আহমেদ এলাকায় প্রভাবশালী একটি গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত এবং পূর্বে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন।
এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, “বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। সামান্য উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।”
ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) লিজা রিছিলের বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, অভিযুক্ত ফারুক আহমেদ স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার আর্থিক অনুদানপ্রাপ্ত নেতা। এছাড়া তিনি আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আবদুর রশিদের ঘনিষ্ট ছিলেন। বর্তমানে এলাকায় তার প্রকাশ্য উপস্থিতি জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

