জাবি শিক্ষার্থীকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ: ছাত্রলীগ কর্মী গ্রেপ্তার

উপজেলা প্রতিনিধি, পূর্বধলা (নেত্রকোনা)

জাবি শিক্ষার্থীকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ: ছাত্রলীগ কর্মী গ্রেপ্তার

নেত্রকোণার পূর্বধলায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধর, টাকা আদায় ও বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণের মামলায় এক ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত প্রধান আসামি শিশির আহম্মদ তালুকদার রাতুলকে (২২) পূর্বধলা উপজেলা সদর ইউনিয়নের শালদিঘা গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে এবং উপজেলা ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী।

রোববার দুপুরে নেত্রকোনা জেলা পুলিশ সুপার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ময়মনসিংহ শহরের চরপাড়া এলাকা থেকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বিজ্ঞাপন

পুলিশ জানায়, গত ১০ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে জাবির ৫৪তম আবর্তনের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মো. শরিফ হোসেন ওরফে রওশান (২০) নেত্রকোণা সদরের নতুন বাইপাস এলাকায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে সিএনজিযোগে রওনা হন। ভুলবশত তিনি পূর্বধলার শালদিঘা এলাকায় নেমে পড়েন। পরে ত্রিমোহনীর দিকে হেঁটে যাওয়ার সময় শালদিঘা ঈদগাহ মাঠসংলগ্ন সড়কে দুই ছিনতাইকারী তার পথরোধ করে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ছিনতাইকারীরা তাকে মারধর করে এবং ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে আরও একজন যোগ দিয়ে তিনজন মিলে তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে মারধর করে। এ সময় তার কাছ থেকে ৪ হাজার ৫৬০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে তার মোবাইল ফোন ব্যবহার করে বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা নিজেদের নম্বরে স্থানান্তর করা হয়। এছাড়া বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা ঋণ নিয়ে সেটিও আত্মসাৎ করা হয়। অভিযুক্তরা প্রায় ২২ হাজার টাকা মূল্যের একটি ভিভো ওয়াই-২৯ মডেলের মোবাইল ফোনও ছিনিয়ে নেয়।

পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগীর ফেসবুক প্রোফাইল দেখে তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বলে জানতে পারে অভিযুক্তরা। এরপর বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে কটূক্তি করে তাকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে ব্ল্যাকমেইলের উদ্দেশ্যে তাকে বিবস্ত্র করে জোরপূর্বক কিছু বক্তব্য ও স্লোগান দিতে বাধ্য করা হয়। পুরো ঘটনাটি মোবাইল ফোনে ধারণ করা হয় এবং পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ১১ জুন পূর্বধলা থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩৯৪ ধারা এবং সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬-এর ২৫(২) ও ২৭(২) ধারায় মামলা দায়ের করেন।

জেলা পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলামের নির্দেশনায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. আব্দুল্লাহ আল রাহিদের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে রাতুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ভুক্তভোগীর ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোন এবং ছিনতাইকৃত টাকার মধ্যে ৪ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

রোববার গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে সাত দিনের রিমান্ড আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...