ভালুকায় অল্প বেতনে খাটছে শিশু শ্রমিক

উপজেলা প্রতিনিধি, ভালুকা (ময়মনসিংহ)

ভালুকায় অল্প বেতনে খাটছে শিশু শ্রমিক

ভালুকায় অল্প বেতনে মিলছে শিশুশ্রমিক। যে বয়সে শিশুরা বই-কলম হাতে নিয়ে স্কুলে যাওয়া কথা, সেই হাত দিয়ে অনেকে কঠিন পরিশ্রম ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত হচ্ছেন। শিশুশ্রমিকদের ক্ষেত্রে কাজের ধরন ও কর্মঘণ্টা সংক্রান্ত আইনের বিধিনিষেধ মানা হচ্ছে না।

অনেক কম পারিশ্রমিক দিয়ে খাটানোর সুযোগ থাকায়, প্রতিষ্ঠানের মালিকরা শিশুশ্রমিক নিয়োগ করছেন। ভালুকা উপজেলার কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে গিয়ে দেখা যায়, শিশু-কিশোরকে নগণ্য পারিশ্রমিক দিয়ে দীর্ঘসময় ধরে কষ্টকর ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করতে দেখা গেছে। কর্মরত শিশুশ্রমিকদের গড় বয়স ১০ থেকে ১৫ বছর। অভাবের তাড়নায় কোমলমতি হাতগুলো ধরেছে ঝাড়ু, তেলকালিমাখা যন্ত্রপাতি কিংবা লোহা কাটার ভারী যন্ত্র।

বিজ্ঞাপন

উপজেলার সিডস্টোর বাজারে মক্কা ডেন্টিং ও পেন্টিং ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশবে কাজ করেছে ১৪ বছরের কিশোর চেং মারমা। তার বাড়ি খাগড়াছড়ি জেলার উকিয়া। কথা বলার সময় তাকে বেশ ক্লান্ত মনে হয়েছিল। তার শরীর ধুলো-ময়লায় চেহারা ফেকাসে ছিল। সে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ডেন্টিং ও রঙয়ের কাজ করে। শিক্ষানবিশ হিসেবে তাকে মাসে কোনো টাকা দেওয়া হয় না। কাজ শেখা শেষ হলে দোকান মালিক তাকে মাসিক বেতন দিবেন।

উপজেলার ভাওয়ালিয়াবাজু গ্রামের সুজনের ছেলে ১১ বছর । জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ইঞ্জিনচালিত ভ্যানে ভারী মালামাল পরিবহন করতে দেখা গেছে। প্রতিদিন ভ্যানে মালামাল পরিবহন করে থাকে। কঠোর পরিশ্রমে শরীর একেবারে দুর্বল হয়ে পড়েছে।

পৌর সদরে সেভেন স্টার নামে রেস্তোরাঁয় কথা হয় উপজেলার ভাওয়ারমোড় গ্রামের বিল্লাল হোসেনের ১৩ বছর বয়সি ছেলে ইমরানের সঙ্গে। সে মাদরাসায় পড়ালেখা করত। তার মামা চার হাজার টাকা বেতনে হোটেলের কাজে পাঠায়। সকাল ৭টায় থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত কাজ করে।

হাকিম নামের এক শিশুশ্রমিকের সঙ্গে কথা হয়। বয়স ১৩ বছর। তার পড়ালেখা করতে ইচ্ছে হয়। সংসারে অভাবের তাড়নায় তার মা তাকে থ্রি-হুইলার গাড়ির হেলপারের কাজে পাঠিয়েছেন। সে দিনে ১২ ঘণ্টা কাজ করে। সে প্রতিদিন ১৫০ টাকা আয় করে। তাতেই সে খুশি। তবে সে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত।

এনজিও আসপাডার নির্বাহী পরিচালক আব্দুর রশিদ জানান, ভালুকায় দারিদ্র্যের দোহাই দিয়ে শিশুশ্রমকে বৈধতা দেওয়ার প্রবণতা অত্যন্ত উদ্বেগজনক হারে বেড়ে গেছে। দরিদ্র পরিবারকে স্বাবলম্বী করার জন্য অর্থসহায়তা ও তাদের সন্তানদের বিনা টাকায় লেখাপড়া করার জন্য স্কুল নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে।

ভালুকা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফিরোজ হোসেন জানান, শিশু-কিশোরদের শ্রমিক হিসেবে কাজের সুযোগ কোনোভাবেই থাকতে দেওয়া উচিত নয়। আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলোÑসব খাতেই শিশুশ্রম সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করা হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন