সুপেয় পানি প্রকল্প মেয়াদ পেরোলেও সেবা অনিশ্চিত, ভোগান্তিতে পৌরবাসী

জেলা প্রতিনিধি, জামালপুর

সুপেয় পানি প্রকল্প মেয়াদ পেরোলেও সেবা অনিশ্চিত, ভোগান্তিতে পৌরবাসী

জামালপুরের ইসলামপুর পৌর এলাকায় বহুল প্রত্যাশিত সুপেয় পানি সরবরাহ প্রকল্পটি নির্ধারিত সময় শেষ হলেও এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে প্রকল্প ঘিরে নিম্নমানের কাজ, সংযোগের নামে অর্থ আদায় এবং দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

পৌরসভা ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (ডিপিএইচই) সূত্রে জানা গেছে, ২০২২–২৩ অর্থবছরে প্রায় ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকার এ প্রকল্পের মাধ্যমে পৌরসভার প্রায় ২ হাজার ৪০০ পরিবারকে নিরাপদ পানির আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এস আর কর্পোরেশন।

বিজ্ঞাপন

তবে প্রকল্পের কাজ সীমিত অগ্রগতি হলেও ইতোমধ্যে কয়েক কোটি টাকা বিল উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে।

পৌর এলাকার পাটনিপাড়া, বেপারীপাড়া, দরজীপাড়া, বোয়ালমারী, কুড়িপাড়া, খালেপাড়া, থানামোড়, নটারকান্দা, ফকিরপাড়া, মাজারবাড়ী, উত্তর ও দক্ষিণ দরিয়াবাদ এবং ঠাকুরগঞ্জ বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় আংশিক পাইপলাইন বসানো হয়েছে। তবে অধিকাংশ এলাকায় এখনো পানি সরবরাহ শুরু হয়নি। কোথাও পাইপ বসিয়ে কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে, আবার কোথাও সংযোগের জন্য টাকা নেওয়া হলেও পানি পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা আধা কান্ত বণিক, কৃষ্ণ কান্ত বণিক, ইলিয়াস পাশা ও শফিকুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, “প্রতি সংযোগের জন্য ৫০০ টাকা নেওয়া হয়েছে। দ্রুত পানি দেওয়ার আশ্বাস থাকলেও মাসের পর মাস পেরিয়ে গেছে, এখনো পানি পাচ্ছি না।”

এলাকার অধিকাংশ নলকূপে আয়রনের পরিমাণ বেশি থাকায় নিরাপদ পানির জন্য প্রকল্পটির ওপর নির্ভরশীল ছিলেন বাসিন্দারা। কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্বে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নারীরা।

শারমিন নুরনাহার, মাহফুজা খাতুন ও আয়শা বেগম বলেন, “সুপেয় পানির আশায় টাকা দিয়েছিলাম। এখনো পানি না পেয়ে দূর থেকে পানি আনতে হচ্ছে। অনেক জায়গায় রাস্তা খুঁড়ে রেখে দেওয়ায় চলাচলেও সমস্যা হচ্ছে।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পে নিম্নমানের পাইপ ব্যবহার করা হয়েছে। অনেক স্থানে সংযোগের আগেই পাইপ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে ভবিষ্যতে পুরো পানি সরবরাহ ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

স্থানীয় বাসিন্দা মনিরুজ্জামান বলেন, “এখানে বড় ধরনের অনিয়ম হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। সঠিক তদন্ত হলে সব বেরিয়ে আসবে।”

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী কামরুজ্জামান বলেন, প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে এবং ধাপে ধাপে সংযোগ দেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি পৌরসভার আওতাধীন।

পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) মোফাখখারুল ইসলাম বলেন, “পরীক্ষামূলকভাবে পানি সরবরাহ শুরু হয়েছে। যারা এখনো সংযোগ পাননি, তারা পর্যায়ক্রমে পাবেন।” বিল উত্তোলনের বিষয়ে তিনি জানান, এসব কার্যক্রম তার দায়িত্ব নেওয়ার আগেই সম্পন্ন হয়েছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এস আর কর্পোরেশনের প্রতিনিধি আরিফুল হক শাকিল বলেন, “যতটুকু কাজ করেছি তারও পুরো বিল পাইনি। নানা অভিযোগ রয়েছে। এই অবস্থায় শতভাগ কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।”

প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়ায় পৌরবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সমন্বয়হীনতা, তদারকির অভাব ও সম্ভাব্য দুর্নীতির কারণে প্রকল্পটি ব্যর্থতার দিকে যাচ্ছে।

তারা দ্রুত একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখার পাশাপাশি দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে দ্রুত কাজ শেষ করে নিরবচ্ছিন্ন সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন পৌরবাসী।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...