অস্ত্র হাতে শতাধিক লোক নিয়ে

ফুলবাড়ীয়ায় বিদ্যালয়ের মাঠ চিরে জোরপূর্বক রাস্তা নির্মাণ, আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা

ফুলবাড়ীয়ায় বিদ্যালয়ের মাঠ চিরে জোরপূর্বক রাস্তা নির্মাণ, আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা
ছবি: আমার দেশ

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় এলজিইডির একটি সড়ক বন্ধ করে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠের মাঝখান দিয়ে নতুন রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।

বিদ্যালয় চলাকালে দেশীয় অস্ত্র হাতে শতাধিক লোক নিয়ে এসে মাঠ দখল করে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার আছিম পাটুলী ইউনিয়নের রামনগর সুপের পাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের অভিযোগ, হোসেনিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে যাওয়া এলজিইডির সড়কটি বন্ধ করে দিয়ে বিদ্যালয়ের মাঠের মাঝ বরাবর নতুন রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিন বলেন, নমজ আলী গংরা বিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে যাওয়া এলজিইডির সড়কটি বন্ধ করে দেওয়ার পর বিদ্যালয়ের মাঠের মাঝখান দিয়ে রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেন। বিষয়টি নিয়ে কয়েক মাস ধরে পাঁয়তারা চলছিল। এ বিষয়ে তিনি লিখিতভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছিলেন। তবে অভিযোগ দেওয়ার পরও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, এলজিইডির সড়ক বন্ধ করে দেওয়ার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের গেটও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে জানানোর পরও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। পরে দেশীয় অস্ত্রের মহড়া দিয়ে বিদ্যালয়ের মাঠ দখল করে মাঝখান দিয়ে নতুন রাস্তা নির্মাণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের মাঠের মাঝখান দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করা হলে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক লেখাপড়ার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। রাস্তার ওপাশে বিদ্যালয়ের একটি ভবন রয়েছে। নতুন রাস্তা নির্মাণের ফলে ভবনটি অরক্ষিত হয়ে পড়েছে। ভবিষ্যতে ভবনটি জবরদখলের আশঙ্কাও রয়েছে বলে জানান তিনি।

এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, এলজিইডির সড়ক বন্ধ করে দেওয়া এবং বিদ্যালয়ের মাঠের মাঝখান দিয়ে রাস্তা নির্মাণের পরিকল্পনার বিষয়ে প্রশাসনকে আগেই লিখিতভাবে জানানো হয়েছিল। এমনকি বৃহস্পতিবার মাঠে রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু হওয়ার সময়ও উপজেলা প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করা হয় বলে দাবি করেন সংশ্লিষ্টরা।

তাদের অভিযোগ, বিষয়টি আগে থেকেই প্রশাসনের নজরে থাকার পরও সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। অভিযোগ পাওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ করা কিংবা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হলে পরিস্থিতি এতদূর গড়াত না বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ ও সরকারি সড়ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলার বিষয়টি প্রশাসনের নজরে থাকার পরও কেন আগেই সুরাহা করা হলো না? তাদের দাবি, প্রশাসন সময়মতো উদ্যোগ নিলে বিদ্যালয়ের মাঠের ভেতর দিয়ে রাস্তা নির্মাণের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হতো না।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক গোলাম মোস্তফা বলেন, মাঠে রাস্তা নির্মাণের সময় দেশীয় অস্ত্রের মহড়া দেওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এলজিইডির সড়ক বন্ধ করে বিদ্যালয়ের মাঠের মাঝখান দিয়ে রাস্তা তৈরি করায় বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হবে।

নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী তানজিলা আকতার বলেন, বিদ্যালয়ের মাঠের মাঝ বরাবর রাস্তা নির্মাণের সময় শতাধিক মানুষ দেশীয় অস্ত্রের মহড়া দেয়। এতে তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। বিদ্যালয়ের মাঝখান দিয়ে রাস্তা থাকলে তাদের লেখাপড়ায় সমস্যা হবে। এলজিইডির সড়কটি দখলমুক্ত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায় সে।

স্থানীয়রা জানান, এলজিইডির সড়ক বন্ধ করে বিদ্যালয়ের মাঠের মাঝখান দিয়ে রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা দীর্ঘদিন ধরেই চলে আসছিল। বিদ্যালয়ের জমি নিয়ে একটি মামলা আদালতে চলমান রয়েছে। এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার সকালে নমজ আলী গংরা দেশীয় অস্ত্র হাতে শতাধিক লোকজন নিয়ে বিদ্যালয়ে আসেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে বিদ্যালয়ের মাঠ দখল করে নতুন রাস্তা নির্মাণ করা হয়।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চলাকালীন সময়ে বিপুলসংখ্যক লোকজনের উপস্থিতি এবং দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক তৈরি হলেও ঘটনাস্থলে প্রশাসনের দৃশ্যমান তৎপরতা দেখা যায়নি। এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে বলে দাবি তাদের।

এ বিষয়ে ফুলবাড়ীয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম সোহাগ বলেন, “এলজিইডির সড়ক বন্ধ করে বিদ্যালয়ের মাঝখান দিয়ে রাস্তা নির্মাণের বিষয়টি মেনে নেওয়া যায় না। বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

ফুলবাড়ীয়া থানার অফিসার ইনচার্জ রাশেদুল হাসান বলেন, কোনো সরকারি স্থাপনা জবরদখল হলে তা উদ্ধারে উপজেলা প্রশাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে। এ বিষয়ে পুলিশের সহযোগিতা চাওয়া হলে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।

উল্লেখ্য, চারদিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেননি।

এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন