গুম ও চাঁদাবাজির অভিযোগে পুলিশের এসআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা

গুম ও চাঁদাবাজির অভিযোগে পুলিশের এসআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা

ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানার এসআই নাহিদ পারভেজের বিরুদ্ধে গুম করে চাঁদা দাবির অভিযোগে মামলা করেছে নাজমুল হক নামের এক ভুক্তভোগীর পরিবার। এ ঘটনায় আদালতের নির্দেশে সোমবার ত্রিশাল থানার মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুনসুর আহমেদ আদালতে এফআইআর হিসেবে

ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, গত জুন মাসের ১১ তারিখ এ ঘটনা ঘটলেও ত্রিশাল থানা পুলিশ ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে অভিযোগ করে বিচার না পেয়ে জেলা লিগ্যাল এইডে আবেদন করে ভুক্তভোগী পরিবার। আসামিরা লিগ্যাল এইডে উপস্থিত না হওয়ায় আইনি পরামর্শের প্রেক্ষিতে গত ২৮ সেপ্টেম্বর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগ দায়ের করা হয়।

অভিযুক্ত এসআই নাহিদ প্রায় দুই বছর ত্রিশাল থানায় কর্মরত ছিলেন এবং গত এক মাস আগে ময়মনসিংহের সদরে ১ নম্বর পুলিশ ফাঁড়িতে বদলি হন। মামলা করার পর থেকেই পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে জানিয়েছে।

মামলার অভিযোগে জানা যায়, গত ১১ জুন ত্রিশাল উপজেলার বীররামপুর গ্রামের জামাল উদ্দিনের ছেলে নাজমুল হককে ত্রিশাল বাসস্ট্যান্ড ওভারব্রিজের নিচ থেকে অপহরণ করেন এসআই নাহিদসহ স্থানীয় সোহেল মিয়া, ফিরোজ ও অজ্ঞাতনামা ৪-৫ জন। অপহরণ করে প্রথমে তাকে একটি সিএনজিতে তোলা হয় এবং বিভিন্ন স্থানে ঘুরিয়ে মারধর করা হয়। পরে এক অজ্ঞাত স্থানে আটক রেখে তার পরিবারের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে নাজমুলকে আর ফিরে পাওয়া যাবে না বলে হুমকি দেওয়া হয়।

এ সময় ভুক্তভোগী পরিবার কোনো উপায় না দেখে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করলে ওই দিন রাত ২টার দিকে ত্রিশাল থানা থেকে অপহৃত নাজমুলকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। পরদিন এ ব্যাপারে ত্রিশাল থানায় অভিযোগ করা হলে দুই মাস ঘুরেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরে ভুক্তভোগী পরিবার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে অভিযোগ করলেও সেখান থেকে কোনো প্রতিকার পাননি।

পরবর্তীতে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে ময়মনসিংহ জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে অভিযোগ দেওয়া হলে গত ২ সেপ্টেম্বর উভয়পক্ষকে হাজির হওয়ার নোটিশ প্রদান করা হয়। কিন্তু এসআই নাহিদসহ আসামিরা কেউ হাজির হননি। ফলে জেলা লিগ্যাল এইড অফিস থেকে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা সম্ভব না হওয়ায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এর পর গত ২৮ সেপ্টেম্বর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করা হলে আদালত ত্রিশাল থানাকে মামলা রুজু করার নির্দেশ দেন।

অপহৃত নাজমুলের ভাই আজমত জানান, ‘আমার ভাইকে অপহরণ করে মারধর করার পর প্রথমে কয়েকটি খালি স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয়। এরপর তার ফোন দিয়ে ২০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। বর্তমানে আমার ভাই নাজমুল ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ত্রিশাল থানায় কর্মরত ডিউটি অফিসার রেজাউল জানান, ‘৯৯৯-এ অভিযোগ পেয়ে অভিযুক্ত নম্বরে ফোন দিলে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা অপহৃতকে সঙ্গে নিয়ে থানায় আসেন। পরে নাজমুলকে তার পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।’

ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপার কামরুল হাসান বলেন, ‘ঘটনা শুনেছি, তবে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে অভিযোগের বিষয়টি আমার নজরে আসেনি। মামলা তদন্তের পাশাপাশি পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের মাধ্যমে বিষয়টি খতিয়ে দেখে অভিযুক্ত এসআইয়ের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত এসআই নাহিদ পারভেজ ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা রুবেলকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।

এমই

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন