শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া সোমেশ্বরী নদীতে সেতুর অভাবে সাঁকোতে ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন পারাপার হচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। এতে করে বাড়ছে জনদুর্ভোগ। এই নদীতে সেতু করার জন্য এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে আবেদন-নিবেদন করে এলেও নেওয়া হচ্ছে না উদ্যোগ।
জানা গেছে, শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলার গারো পাহাড়ের পাদদেশে বালিজুরি গ্রাম। সীমান্তের ওপার ভারত থেকে নেমে আসা সোমেশ্বরী নদীটি এই গ্রামের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। নদীটির ওপর এখনো নির্মাণ করা হয়নি একটি সেতু। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে সোমেশ্বরী নদী পারাপার হচ্ছেন বালিজুরিসহ আশপাশের গ্রামের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বাড়লে দুর্ভোগ আরো তীব্র হয়ে ওঠে।
জানা গেছে, সোমেশ্বরীর প্রবাহের কারণে গারো পাহাড়ের কোলঘেঁষা খাড়ামোড়া, রাঙাজান, কোচপাড়া, তাওয়াকুচা ও বালিজুরি গ্রামের মানুষের যোগাযোগব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে ব্যাহত হচ্ছে। নদী পারাপারের জন্য একটি স্থায়ী সেতু না থাকায় প্রতিদিনই নানা বিড়ম্বনার মুখোমুখি হতে হয় এসব গ্রামের বাসিন্দাদের। তাদের কাছে সেতুটি কেবল যাতায়াতের সুবিধা নয়, নিরাপদ ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের একটি দীর্ঘদিনের দাবি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গ্রামগুলোর যোগাযোগের জন্য একটি সড়ক থাকায় নদী পারাপার ছাড়া বিকল্প কোনো পথ নেই। তাই এলাকাবাসীর উদ্যোগে বাঁশ-কাঠ জোগাড় করে নদীর ওপর অস্থায়ী সাঁকো বানিয়ে নিয়েছেন তারা। তবে বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢলের পানি বাড়লেই সেই সাঁকো টেকে না, বছরে একাধিকবার ভেঙে যায়। তখন বাধ্য হয়ে নৌকায় নদী পার হতে হয়। আর অনেক সময় বুকসমান পানির মধ্য দিয়েই যাতায়াত করতে হয় তাদের। নদী পারাপারের সংকটে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন শিক্ষার্থী, কৃষক ও অসুস্থ মানুষ। প্রতিদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের সময় ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হতে হয় শিক্ষার্থীদের। অন্যদিকে কৃষকদের উৎপাদিত ফসল বাজারে পৌঁছাতে অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয় বহন করতে হচ্ছে। আর কোনো রোগীর দ্রুত চিকিৎসার প্রয়োজন হলে হাসপাতালে নেওয়ার পথটিও হয়ে ওঠে দুশ্চিন্তা ও দুর্ভোগের।
শ্রীবরদী উপজেলা প্রকৌশলী মশিউর রহমান বলেন, সেতু নির্মাণের লক্ষ্যে হানড্রেড মিটার প্রকল্পের আওতায় একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। তবে বুয়েটের বিশেষজ্ঞ দল প্রস্তাবিত সেতুটির দৈর্ঘ্য আরো বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে। এ কারণে বর্তমানে প্রকল্পটির কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।
শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনীষা আহমেদ বলেন, এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের এই দাবিটি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরা হয়েছে। প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলে সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে।
শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল বলেন, দীর্ঘ ৫৫ বছর ধরে চলা এই দুর্ভোগের বিষয়টি সেতুমন্ত্রী, প্রধান প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্টদের অবহিত করা হয়েছে। নদীর প্রবল স্রোত ও ভাঙনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

