নেত্রকোনার মদন উপজেলায় ঘুরতে নিয়ে এক কিশোরীকে ধর্ষণের পর বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার পর নিজ ঘরে ওই কিশোরী আত্মহত্যা করেছে বলে দাবি করেছে পরিবার।
নিহত কিশোরীর নাম শোভা আক্তার (১৬)। সে মদন উপজেলার নায়েকপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামের আব্দুল খালেকের মেয়ে। অভিযুক্ত যুবকের নাম হাসান (২০)। সে একই গ্রামের আলীম উদ্দিনের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একই গ্রামের বাসিন্দা হওয়ায় শোভার সঙ্গে হাসানের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত রোববার হাসান শোভাকে পাশের কেন্দুয়া উপজেলার তাম্বুলীপাড়ার একটি মিনি পার্কে ঘুরতে নিয়ে যান। স্বজনদের অভিযোগ, সেখানে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় তাকে ধর্ষণ করা হয়। পরবর্তী সময়ে শোভা বিয়ের প্রস্তাব দিলে হাসান তা প্রত্যাখ্যান করে গালমন্দ করেন এবং উল্টো ২০ হাজার টাকা দাবি করেন।
ভুক্তভোগী শোভা বিষয়টি তার বাবাকে জানালে আজ মঙ্গলবার সকালে তার বাবা বিচারের উদ্দেশ্যে গ্রামের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলতে বাড়ির বাইরে যান। এই সুযোগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শোভা নিজ বসতঘরের ধরনার সঙ্গে রশি পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে বলে পরিবার জানায়।
নিহতের বাবা আব্দুল খালেক বলেন, আমার মেয়েকে ভুল বুঝিয়ে ঘুরতে নিয়ে যায় হাসান। সেখানেই সে এই সর্বনাশ করে। গতকাল রাতে মেয়ে আমাকে বিষয়টি জানায়। সকালে তাকে বাড়িতে রেখে বিচার চাইতে বের হয়েছিলাম। পরে ফিরে এসে দেখি মেয়ে মারা গেছে। আমার মেয়ের কাছে তাদের কথোপকথনের কল রেকর্ডও ছিল। মূলত হাসানের এ আচরণের কারণেই আমার মেয়ে প্রাণ হারিয়েছে, আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
এদিকে অভিযুক্ত হাসানের মা হাছনা আক্তার বলেন, আজ রাতে শুনেছি আমার ছেলে এমন ঘটনা ঘটিয়েছে। কিন্তু মেয়েটি কেন আত্মহত্যা করতে গেল? আমি জানা মাত্রই তো তাদের বিয়ে দিতাম। তবে তার ছেলে এখন কোথায় আছে—জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
মদন থানার ওসি সালাউদ্দিন করিম জানান, খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

