জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার মাহমুদপুর এলাকায় রোজিনা-রফিকুল দম্পতির খামারে বেড়ে উঠেছে বিশাল আকৃতির ষাঁড় জমিদার। চার বছর বয়সি ‘জমিদার’-এর ওজন প্রায় ৩২ মণ। উচ্চতা প্রায় ৬ ফুট এবং দৈর্ঘ্য ১১ ফুট । বিশাল আকৃতির হলেস্টেইন ফ্রিজিয়ান জাতের গরুটির দাম চাওয়া হচ্ছে ১৩ লাখ টাকা। বিশাল দেহ, রাজকীয় খাবারের অভ্যাস এবং শান্ত স্বভাবের কারণে স্থানীয়দের কাছে এখন বেশ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে গরুটি।
খামার দম্পতি জানান, জমিদার সাধারণ গরুর মতো নয়। টাটকা খাবার ছাড়া বাসি বা পচা খাবারে মুখই দেয় না। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় থাকে কাঁচা ঘাস, খড়, ভুসি, ভুট্টা, খৈল, ছোলা, বিভিন্ন ফল ও উন্নতমানের দানাদার খাবার। প্রতিদিন প্রায় এক হাজার টাকার খাবার খায় গরুটি। খাবারে এমন আভিজাত্যের কারণেই তার নাম রাখা হয়েছে জমিদার।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিশাল দেহের গরুটি খামারের চালাঘরে শান্তভাবে দাঁড়িয়ে আছে। দূরদূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসছেন এক নজর দেখতে। কেউ মোবাইলে ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও ধারণ করছেন। শুধু তাই নয়, প্রতিদিনই গরুটিকে দেখতে উৎসুক মানুষের ভিড় জমছে খামারে।
গরুটি দেখতে আসা ইকবাল মাহমুদ নামে এক দর্শনার্থী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গরুটির কথা শুনে দেখতে এসেছি। কাছে এসে দেখি সত্যিই বিশাল আকৃতির গরু। এত বড় গরু এর আগে কখনো দেখিনি। গরুটি যেমন বড়, তেমনি বেশ শান্ত স্বভাবের। এক নজর দেখতেই মানুষের ভিড় লেগে আছে। খামারি রোজিনা বেগম বলেন, পরিবারের একজন সদস্যের মতো করেই জমিদারকে লালন-পালন করেছি। নিয়মিত যত্ন, পরিচর্যা ও ভালো খাবার দেওয়ার কারণেই গরুটি আজ এত বড় হয়েছে।
রফিকুল মোল্লা বলেন, গত কোরবানি ঈদে গরুটির দাম উঠেছিল প্রায় ৬ লাখ ২০ হাজার টাকা। কিন্তু খরচের তুলনায় দাম কম হওয়ায় বিক্রি করিনি। আরো এক বছর পরিচর্যা করায় গরুটি এখন আগের চেয়ে অনেক বড় ও মোটাতাজা হয়েছে। কোনো ধরনের রাসায়নিক খাবার ব্যবহার করিনি। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাবারেই গরুটিকে বড় করেছি। গুরুটির দাম চাওয়া হচ্ছে ১৩ লাখ টাকা । তবে আলোচনা সাপেক্ষে কিছুটা কম হলেও বিক্রি করে দিবেন তিনি।
মেলান্দহ উপজেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা খাইরুল ইসলাম বলেন, খামারিরা এখন উন্নত জাতের গরু পালনে বেশ আগ্রহী হচ্ছেন। প্রাণিসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে খামারিদের নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

