ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জামালপুর-৩ (মাদারগঞ্জ-মেলান্দহ) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী আটজন প্রার্থীর মধ্যে বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীসহ তিন প্রার্থী কোটিপতি। তারা হলেন—বিএনপির প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মোহাম্মদ দৌলতুজ্জামান আনছারী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিএনপির বিদ্রোহী) সাদিকুর রহমান সিদ্দিকী শুভ। এই তিন প্রার্থীর পাশাপাশি তাদের স্ত্রীরাও সম্পদের দিক দিয়ে কোটিপতি। এদিকে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মাওলানা মুজিবুর রহমান আজাদীরও স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে ৫২ লাখ টাকার সম্পদ রয়েছে। নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় দাখিল করা প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
বিএনপি-মনোনীত প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে ২ কোটি ৪০ লাখ ৯ হাজার ৯৫৪ টাকার সম্পদ রয়েছে। তার ব্যবসায়ী স্ত্রীর স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে ৪ কোটি ২ লাখ ৫৪ হাজার ৮৪৩ টাকার সম্পদ রয়েছে। অর্থাৎ বাবুলের চেয়ে তার স্ত্রী সম্পদে এগিয়ে রয়েছেন।
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, বাবুলের ব্যবসা, শেয়ার, বন্ড, সঞ্চয়পত্র, ব্যাংক আমানত ও অন্যান্য উৎস থেকে বার্ষিক আয় ৩২ লাখ ১৬ হাজার ৮৫ টাকা। তার কাছে নগদ রয়েছে ৪ লাখ ৫ হাজার টাকা। ব্যাংকে বৈদেশিক মুদ্রা রয়েছে ১৪ হাজার ৫৬২ মার্কিন ডলার। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ১০টি অ্যাকাউন্টে জমা আছে ১ কোটি ৪১ লাখ ১ হাজার ৪৬ টাকা। বন্ড, ঋণপত্র, স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত ও অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার এবং অংশীদারি ফার্ম জিলানী প্রিন্টিং অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজে তার বিনিয়োগের পরিমাণ ১১ লাখ ৪৭ হাজার ৮০১ টাকা (৫০ শতাংশ অংশ) এবং তামান্না ফার্মেসিতে ৫ লাখ ১৫ হাজার ৯৭২ টাকা। ডিপোজিট ও ডাক সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ রয়েছে ৩০ লাখ টাকা। তিনি স্ত্রীর কাছ থেকে ঋণ নিয়েছেন ১৫ লাখ টাকা।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোহাম্মদ দৌলতুজ্জামান আনছারী। তিনি জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করে ইসলামী আন্দোলনে যোগ দেন। আনছারীর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ রয়েছে ৭ কোটি ৭৩ লাখ ৫৯ হাজার ৮৬৩ টাকার। তার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা স্ত্রীর স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে ৬ কোটি ১০ লাখ ৫৭ হাজার ১০৬ টাকার সম্পদ রয়েছে। হলফনামা অনুযায়ী, দৌলতুজ্জামান আনছারীর কৃষি খাত, বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট ও অন্যান্য স্থাবর সম্পত্তির ভাড়া এবং ব্যবসা থেকে বার্ষিক আয় ৮ লাখ ৮২ হাজার ৬০৩ টাকা। তার হাতে থাকা নগদ অর্থের পরিমাণ ১ কোটি ৬৯ লাখ ২০ হাজার ১৫৫ টাকা।
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, দৌলতুজ্জামান আনছারীর স্ত্রীর বার্ষিক আয় ৫ লাখ ২৩ হাজার ৩২৯ টাকা। তার হাতে নগদ অর্থ রয়েছে ৩৯ লাখ ১৯ হাজার ৪৫২ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা আছে ২৬ লাখ ৬২ হাজার ৬৫৪ টাকা। জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মাওলানা মুজিবুর রহমান আজাদীর স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে মোট ৫২ লাখ ১০ হাজার টাকার সম্পদ রয়েছে।
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, আজাদীর শিক্ষকতা ও অন্যান্য উৎস থেকে বার্ষিক আয় ১৩ লাখ ৩০ হাজার ৪৮২ টাকা। তার হাতে নগদ রয়েছে ৪ লাখ ৫ হাজার ২৪১ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা আছে ২ হাজার ২৬ টাকা। তার ৬০ শতাংশ কৃষিজমি, ৭ শতাংশ অকৃষিজমি ও একটি নির্মাণাধীন তিনতলা ভবন রয়েছে। আজাদীর গৃহিণী স্ত্রীর বার্ষিক কোনো আয় এবং নগদ টাকা নেই। তবে তার ২০ ভরি স্বর্ণালংকার ও ৬২ শতাংশ কৃষিজমি রয়েছে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিএনপির বিদ্রোহী) ও মেলান্দহ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদিকুর রহমান সিদ্দিকী শুভর স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে ২ কোটি ৮৩ লাখ ৩৯ হাজার ৬৭ টাকার (বর্তমান মূল্য) সম্পদ রয়েছে। তার গৃহিণী স্ত্রীর রয়েছে উপহার হিসেবে পাওয়া ২০ ভরি স্বর্ণালংকার।
জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী মীর শামসুল আলম লিটনের ব্যবসা ও অন্যান্য উৎস থেকে বার্ষিক আয় ১৯ লাখ ৮৩ হাজার ৩৩৯ টাকা। তার নগদ বা ব্যাংকে কোনো টাকা জমা নেই।
গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন ডা. ফিদেল নঈম। ফিদেল নঈমের চাকরি থেকে বার্ষিক আয় ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা। তার ৪০ হাজার টাকার একটি মোবাইল ফোন ও ৮০ হাজার টাকার আসবাবপত্র রয়েছে। তবে তার কোনো নগদ টাকা বা স্থাবর সম্পদ নেই।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


অমীমাংসিত সমস্যা সত্ত্বেও গাজা যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ শুরু