আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

সুশাসনের প্রত্যাশা ও সরকারের করণীয়

ড. ছিদ্দিকুর রহমান খান

সুশাসনের প্রত্যাশা ও সরকারের করণীয়

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকারের রাষ্ট্র পরিচালনার মূল দর্শন হলো জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা। আর জনকল্যাণ নিশ্চিত করতে যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়, তা হলো সুশাসন। সুশাসন কেবল প্রশাসনিক দক্ষতার বিষয় নয়; এটি রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা এবং নাগরিক আস্থার মূল ভিত্তি। আর সুশাসন হলো এমন এক শাসনব্যবস্থা যেখানে রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, ন্যায়বিচার, দক্ষতা ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত থাকে এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা জনকল্যাণে দায়িত্বশীলভাবে প্রয়োগ করা হয়। অন্যভাবে বলা যায়, জনগণের কল্যাণ, আইনের শাসন ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে পরিচালিত কার্যকর ও ন্যায্য শাসনই সুশাসন। যে রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়, সেখানে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মের অধীনে দক্ষ ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করে, ক্ষমতার অপব্যবহার কমে এবং নাগরিকরা ন্যায়বিচার ও সমান সুযোগ পায়। সুশাসন সামাজিক ন্যায়, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে রাষ্ট্রের প্রতি জনগণের আস্থা সুদৃঢ় হয় এবং উন্নয়নের ভিত্তিও মজবুত হয়। সুশাসনের ঘাটতি থাকলে উন্নয়নের সুফল সুষমভাবে বণ্টিত হয় না, দুর্নীতি বাড়ে এবং জনগণের আস্থা কমে যায়। ফলে রাষ্ট্রের অর্জনগুলো দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকির মুখে পড়ে।

সুশাসন বিষয়ে জনপ্রত্যাশা

বিজ্ঞাপন

দীর্ঘ সময় ধরে বিশেষ করে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শাসনামলে বাংলাদেশের মানুষ রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক অনিশ্চিয়তা এবং প্রাতিষ্ঠানিক নানা অনিয়ম ও দুর্বলতার শিকার হয়ে আসছে। ফলে বর্তমান প্রেক্ষাপটে জনগণের প্রত্যাশা কোনো বিমূর্ত আদর্শগত বিষয় বা কেবল অবকাঠামোগত উন্নয়ন বা পরিসংখ্যানগত প্রবৃদ্ধিতে সীমাবদ্ধ নয়। তাদের প্রত্যাশা এখন বাস্তবভিত্তিক ও জীবনমুখী। মানুষ এখন ন্যায়ভিত্তিক ও কার্যকর রাষ্ট্রব্যবস্থা চায়। বর্তমানে মানুষের প্রত্যাশার মধ্যে আছে—

প্রথমত, অর্থনৈতিক স্বস্তি এখন বাংলাদেশের মানুষের অন্যতম প্রধান চাহিদা। দীর্ঘদিন ধরে চলমান ঊর্ধ্বমুখী মূল্যস্ফীতি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের সংকট মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারকে ক্রমাগত চাপের মুখে ঠেলে দিয়েছে। মানুষ এখন সরকারের কাছে এমন একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রত্যাশা করে যেখানে আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য থাকবে, সঞ্চয়ের সুযোগ থাকবে এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে কর্মসংস্থান নিশ্চিত হবে। মানুষ এখন কোনো অস্বাভাবিক বা অলীক প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাস করে না; তারা চায় বাজার স্থিতিশীলতা এবং জীবনমানের উন্নয়ন।

দ্বিতীয়ত, আইনের শাসন ও নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জনদাবি। অপরাধ, চাঁদাবাজি ও সামাজিক সহিংসতার আশঙ্কা মানুষের দৈনন্দিন জীবনে অনিশ্চয়তা তৈরি করে। মানুষ নিরাপদে রাস্তায় চলতে, তার পরিবার নিয়ে শান্তিতে বসবাস করতে চায়। তারা প্রত্যাশা করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে এবং রাজনৈতিক বা অন্য কোনো পরিচয়েই কেউ আইনের ঊর্ধ্বে থাকবে না।

তৃতীয়ত, বাংলাদেশে দুর্নীতি এখন আর কোনো নির্দিষ্ট খাতের সমস্যা নয়, এটি একটি জাতীয় অভিশাপে পরিণত হয়েছে। ব্যাংক খাত থেকে শুরু করে সরকারি ক্রয়, প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া—সর্বত্রই দুর্নীতির ছাপ স্পষ্ট। দুর্নীতির বিরুদ্ধে দৃশ্যমান পদক্ষেপ জনগণের অন্যতম বড় দাবি। জনগণ চায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা। তারা দেখতে চায় দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কার্যকর শাস্তির ব্যবস্থা। মানুষ এখন সরকারের কাছে প্রতিশ্রুতির চেয়ে কাজে পরিবর্তনের প্রমাণ দেখতে চায়।

জনপ্রত্যাশা পূরণে নবগঠিত সরকারের করণীয়

এক বিশাল জনপ্রত্যাশার বোঝা কাঁধে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকারের যাত্রা শুরু হয়েছে। সুশাসন বিষয়ে বিএনপিও ৩১ দফা এবং নির্বাচনি ইশতেহারে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এসব প্রতিশ্রুতি মোতাবেক জনপ্রত্যাশা পূরণে সরকারকে কৌশলগত ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এক্ষেত্রে নিম্নোক্ত কিছু অতিসত্বর ও কিছু দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি বলে মনে করি।

আইনের শাসন সুদৃঢ় করা

আইনের শাসন নিশ্চিত করা সুশাসনের কেন্দ্রবিন্দু। আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ না হলে নাগরিকদের মধ্যে বৈষম্য ও অবিশ্বাস তৈরি হয়। বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা, মামলাজট এবং বিচারপ্রাপ্তির বিলম্ব নাগরিক আস্থাকে দুর্বল করে। বিদ্যমান বাস্তবতায় তাই বিচারব্যবস্থার আধুনিকীকরণ, বিচারক ও জনবল বৃদ্ধি, প্রযুক্তিনির্ভর কেস ম্যানেজমেন্ট চালু এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পেশাগত সক্ষমতা বৃদ্ধি জরুরি। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে, দ্রুত ও ন্যায়সংগত বিচার নিশ্চিত হলে একদিকে যেমন নাগরিক জননিরাপত্তা তৈরি হবে, তেমনি রাষ্ট্র ও সরকারের প্রতি নাগরিকদের আস্থা বহুগুণে বাড়বে।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স

বাংলাদেশে দুর্নীতির বিস্তার সর্বগ্রাসী। দুর্নীতি শুধু রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ক্ষতি করে না; এটি রাষ্ট্রের নৈতিক ভিত্তিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। দুর্নীতির নির্মূল বর্তমান সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। বিএনপির ৩১ দফা এবং নির্বাচনি ইশতেহারে প্রদত্ত অঙ্গীকার অনুযায়ী সরকারকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে। এজন্য দুর্নীতি দমন কমিশনকে প্রকৃত অর্থে স্বায়ত্তশাসিত করে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া চালু করতে হবে। নিজ দলের মধ্যেও কেউ দুর্নীতিতে জড়িত হলে বা জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। সরকারি ক্রয়, নিয়োগ ও উন্নয়ন প্রকল্পে পূর্ণাঙ্গ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ই-টেন্ডার ও ডিজিটাল মনিটরিং জোরদার করতে হবে। জবাবদিহিতার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে উচ্চপর্যায়ের দুর্নীতির বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। প্রয়োজনে ‘হুইসেলব্লোয়ার সুরক্ষা আইন’ কার্যকর করা যেতে পারে। সর্বোপরি, সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং নাগরিক অংশগ্রহণের সমন্বিত প্রয়াসের মাধ্যমেই বিএনপির দুর্নীতিবিরোধী ‘জিরো টলারেন্স’ অঙ্গীকার বাস্তবে রূপ পেতে পারে।

প্রশাসনিক দক্ষতা ও সেবার মান বৃদ্ধি

প্রশাসনিক দক্ষতা ও সেবার মান উন্নয়ন সুশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। অনেক ক্ষেত্রে দাপ্তরিক জটিলতা ও সময়ক্ষেপণ জনগণের হয়রানি ও ভোগান্তি বাড়ায়। এতে নাগরিক সন্তুষ্টি কমে এবং অনানুষ্ঠানিক লেনদেনের সুযোগ তৈরি হয়। এসব এড়াতে প্রতিশ্রুতি মোতাবেক সরকারের সব পর্যায়ে ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালু, নির্দিষ্ট সময়সীমাভিত্তিক সেবা প্রদান, অনলাইন আবেদন ও ট্র্যাকিং ব্যবস্থা এবং কার্যকর অভিযোগ নিষ্পত্তি কাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন। ই-গভর্ন্যান্সের সম্প্রসারণ এ ক্ষেত্রে বড় সহায়ক হতে পারে।

অংশগ্রহণমূলক শাসনব্যবস্থা নিশ্চিত করা

সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য অংশগ্রহণমূলক শাসনব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। গণতন্ত্রের শক্তি নিহিত থাকে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণে। সরকারের নীতি প্রণয়ন ও উন্নয়ন পরিকল্পনায় নাগরিক সমাজ, বিশেষজ্ঞ এবং স্থানীয় জনগণের মতামত প্রতিফলিত হলে সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবমুখী ও গ্রহণযোগ্য এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়। অংশগ্রহণমূলক শাসন দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার কমাতেও সহায়ক হয়। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা, সংসদীয় কমিটিগুলোর কার্যকারিতা বাড়ানো, উন্মুক্ত বাজেট ও গণশুনানির প্রচলন করা, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নাগরিক মতামত গ্রহণের ব্যবস্থা করা এবং সুশীল সমাজ ও গণমাধ্যমের স্বাধীন কার্যক্রম নিশ্চিত করার মাধ্যমে সরকার এসব লক্ষ্য অর্জন করতে পারে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করে নীতি প্রণয়নসহ উপরে বর্ণিত পদক্ষেপসমূহ বাস্তবায়িত হলে অংশগ্রহণমূলক শাসনের মাধ্যমে টেকসই সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।

মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা

মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা সুশাসনের অন্যতম মৌলিক পূর্বশর্ত। একটি রাষ্ট্র তখনই প্রকৃত অর্থে সুশাসিত হিসেবে বিবেচিত হয়, যখন নাগরিকের মৌলিক অধিকার—বিশেষত জীবন, স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার ও মতপ্রকাশের অধিকার নিরাপদ ও সম্মানিত থাকে। আর একটি আত্মবিশ্বাসী সরকার ভিন্নমতকে দমন নয়, বরং গ্রহণ করে। কারণ গঠনমূলক সমালোচনা সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। আর মানবাধিকার সুরক্ষিত থাকলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। আইন প্রয়োগে সংযম, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা এবং মানবাধিকার সংস্থার সঙ্গে গঠনমূলক সংলাপ বজায় রেখে এক্ষেত্রে সরকারের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশিত। এ বিষয়ে কার্যকর ও আন্তরিক সরকারি উদ্যোগ সুশাসনের ভিত্তিকে শক্তিশালী করবে।

অর্থনৈতিক সুশাসন জোরদার করা

আগেই বলা হয়েছে, বর্তমানে অর্থনৈতিক স্বস্তি জনগণের প্রধান প্রত্যাশা। এ প্রত্যাশা পূরণে প্রয়োজন অর্থনৈতিক সুশাসন নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্যে রাজস্ব ব্যবস্থাপনা, বাজেট প্রণয়ন ও প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। কর ফাঁকি ও অপচয় দমন, শক্তিশালী প্রকল্প মূল্যায়ন, স্বাধীন নিরীক্ষা ও পারফরম্যান্সভিত্তিক বাজেটিং চালু করা প্রয়োজন। পাশাপাশি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, বেসরকারি খাতকে উৎসাহ, রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি, রপ্তানি বৈচিত্র্য এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। এক্ষেত্রে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর সম্প্রসারণও জরুরি। সর্বোপরি অর্থনৈতিক সুশাসনের ভিত্তিকে আরো দৃঢ় করতে তথ্যভিত্তিক নীতি গ্রহণ এবং কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।

সামাজিক ন্যায় ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন

সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সামাজিক ন্যায় ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক। উন্নয়নের সুফল তখনই অর্থবহ হবে, যখন তা সমাজের সব স্তরে পৌঁছে। বৈষম্য, বঞ্চনা ও প্রান্তিকতা কমে এলে রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকের আস্থা বৃদ্ধি পায় এবং টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি মজবুত হয়। এ ক্ষেত্রে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এবং আঞ্চলিক বৈষম্য কমাতে সরকারের বিশেষ উদ্যোগ প্রয়োজন। পাশাপাশি আঞ্চলিক ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়ন এবং অংশগ্রহণমূলক নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়া জোরদার করা আবশ্যক। কার্যকর ও ন্যায়ভিত্তিক এসব সরকারি উদ্যোগ গৃহীত হলে সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের মাধ্যমে সুশাসন সুদৃঢ় হবে।

একটি রাষ্ট্র ও সরকারের সাফল্য মূলত সুশাসনের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা ও নির্বাচনি ইশতেহারে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সংস্কার, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতি দমন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ, প্রশাসনকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখা এবং মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সুরক্ষার যে অঙ্গীকার করা হয়েছে, তা বাস্তবায়িত হলে দেশে সুশাসন এবং জবাবদিহিতামূলক ও অংশগ্রহণমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ভিত্তি সুদৃঢ় হবে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে এবং জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে নবগঠিত সরকারের কার্যকর ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে আমাদের একথাও স্মরণ রাখতে হবে যে, সুশাসন প্রতিষ্ঠা কেবল সরকারের একক দায়িত্ব নয়; এটি রাষ্ট্র ও সমাজের সকল অংশীজনের সম্মিলিত প্রয়াসে অর্জিত হয়। রাজনৈতিক দল, আমলাতন্ত্র, গণমাধ্যম, নাগরিক সমাজ সবাই যদি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে, আইন মান্য করার সংস্কৃতি জোরদার করে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলে, তাহলে সুশাসনের পথ আরো সুগম হবে। সরকারের দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও নাগরিক সচেতনতার সমন্বয়ে সুশাসন নিশ্চিত করা গেলে দেশের উন্নয়ন হবে আরো অন্তর্ভুক্তিমূলক, টেকসই ও জনগণমুখী; আর এটাই নবগঠিত সরকারের কাছে আজ জাতির প্রত্যাশা।

লেখক : ডিন, কলা অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি

srkhan@du.ac.bd

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...