আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

সতর্ক করলেন মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক

মৎস্যখাতে অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার আশঙ্কাজনক

ময়মনসিংহ অফিস

মৎস্যখাতে অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার আশঙ্কাজনক
ছবি: আমার দেশ।

মৎস্যখাতে অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আব্দুর রউফ। তিনি বলেন, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ছাড়া মাছচাষে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ফলে তাৎক্ষণিক সুফল মিললেও দীর্ঘমেয়াদে জনস্বাস্থ্য, খাদ্যনিরাপত্তা ও পরিবেশের জন্য তা মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে।

বৃহস্পতিবার সকালে ময়মনসিংহে অবস্থিত বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের অডিটোরিয়ামে মৎস্য অধিদপ্তরের আয়োজনে ‘মৎস্যখাতে অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার বন্ধ’ বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

মৎস্য অধিদপ্তরের ময়মনসিংহ বিভাগীয় পরিচালক নৃপেন্দ্র নাথ বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য অধিদপ্তরের মৎস্য পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. খালেদ কনক। এছাড়াও মৎস্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, মৎস্য কর্মকর্তা, মাছচাষি, খামার ব্যবস্থাপক, হ্যাচারি মালিক, মৎস্য খাদ্য উৎপাদনকারীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের স্টেকহোল্ডাররা সভায় অংশগ্রহণ করেন।

সভায় বক্তারা বলেন, মাছের রোগ প্রতিরোধ, দ্রুত বৃদ্ধি এবং অধিক মুনাফার আশায় অনেক চাষি মাত্রাতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করছেন। বিশেষ করে বদ্ধ জলাশয়ে এ প্রবণতা বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এর ফলে মাছের শরীরে ক্ষতিকর অবশিষ্টাংশ থেকে যাচ্ছে, যা মানুষের শরীরে গিয়ে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

মৎস্য কর্মকর্তারা জানান, অনেক ক্ষেত্রেই মৎস্য বিভাগের পরামর্শ ছাড়াই মাছচাষিরা পুকুর বা ঘেরে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করছেন। রোগ সারানো কিংবা রোগ প্রতিরোধ এই দুই উদ্দেশ্যেই তারা এসব ওষুধ ব্যবহার করেন। তবে নতুন ও অনভিজ্ঞ মাছচাষিদের মধ্যেই অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের প্রবণতা তুলনামূলকভাবে বেশি।

সভায় জানানো হয়, ওষুধ কোম্পানির কিছু প্রতিনিধি এবং স্থানীয় ফিড ব্যবসায়ীরা মাছচাষিদের অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে উৎসাহিত করেন। এক অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রেতা বলেন, ‘ওষুধ কোম্পানির লোকজন আমাদের কাছে অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে যায়। চাষিরা চাইলে আমরা তা বিক্রি করি এবং কোম্পানির লোকজন যেভাবে ব্যবহার করতে বলে, সেভাবেই চাষিদের পরামর্শ দিই।’

মাছচাষি শামসুল আলম বাদল বলেন, ‘নতুন ও অনভিজ্ঞ চাষিরা না বুঝে কোম্পানির লোকদের প্রলোভনে পড়ে মাত্রাতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করছেন। একবার পুকুর বা ঘেরে এসব ওষুধ প্রয়োগ করার পর নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী তা অপসারণ না করলে মাছ ও পরিবেশ উভয়েরই মারাত্মক ক্ষতি হয়।’

সভায় বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি ও ব্যবহার বন্ধ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে এ বিষয়ে কঠোর নজরদারি ও সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানানো হয়।

মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিসারিজ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক জসিম উদ্দিন, ফিসারিজ টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক সাহেদ রেজা, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলম, মৎস্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক রণজিৎ কুমার পাল প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মৎস্য অধিদপ্তরের ময়মনসিংহ বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক রিপন কুমার পাল। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ময়মনসিংহ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আরাফাত উদ্দিন আহমেদ। সভায় জেলার বিভিন্ন উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা এবং অর্ধশতাধিক মাছচাষি উপস্থিত ছিলেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন