নেত্রকোনার মদনে জবাইয়ের উদ্দেশে রোগাক্রান্ত গরু কেনা এবং প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরীক্ষা ছাড়া মাংস বিক্রির অভিযোগে পারভেজ মিয়া নামের এক কসাইকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বৃহস্পতিবার সকালে মদন পৌর শহরের দেওয়ান বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাদির হোসেন শামীম। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে তাকে এ জরিমানা করা হয়। এ সময় উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম, পুলিশের এএসআই জাকির হোসেন, স্থানীয় সাংবাদিক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার উপজেলার ঐতিহ্যবাহী দেওয়ান বাজারে সাপ্তাহিক হাট বসে। প্রতি সপ্তাহে এই হাটে রোগাক্রান্ত গরুর মাংস বিক্রির অভিযোগ রয়েছে পারভেজ মিয়া, মঞ্জিল কসাইসহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে।
বুধবার রাতে একটি রোগাক্রান্ত গাভী জবাইয়ের প্রস্তুতি নেন পারভেজ মিয়া। বিষয়টি স্থানীয় লোকজনের নজরে পড়লে তাঁরা এতে বাধা দেন। পরে স্থানীয় সংবাদকর্মীরা বিষয়টি জানতে পেরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাভীটির ভিডিও পোস্ট করেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হলে প্রশাসনকে খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান ইউএনও নাদির হোসেন শামীম। পরে তিনি পারভেজ মিয়াকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম জানান, কোনো প্রাণী জবাইয়ের আগে অবশ্যই প্রাণিসম্পদ দপ্তরের অনুমতি নিতে হয়। কিন্তু প্রাণিসম্পদ অফিসের অনুমতি ছাড়াই অহরহ গরু-ছাগল জবাই হচ্ছে এবং তা বাজারে বিক্রি হচ্ছে। যা সঠিক নয়।
এ ব্যাপারে ইউএনও নাদির হোসেন শামীম জানান, ‘আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসি। এ সময় একটি রোগাক্রান্ত গরু দেখতে পাই। তাছাড়া তার দোকানে রাখা মাংসও প্রাণিসম্পদ কর্তৃক পরীক্ষিত নয়। তাই ভোক্তা অধিকার আইনে পারভেজ মিয়া নামের এক কসাইকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ভবিষ্যতের জন্য তাকে আরও শর্ত করা হয়েছে।’
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

