ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনে বিএনপি-জামায়াত প্রার্থীর মধ্যে শুভেচ্ছা বিনিময় হয়েছে। নির্বাচনি উত্তাপ কাটিয়ে বিজয়ী ও পরাজিত প্রার্থী গণতান্ত্রিক চেতনার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে। এ আসনে বিজয়ী বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলনকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান জামায়াতে ইসলামীর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ।
গতকাল শনিবার দুপুর ১২টায় হড়গ্রাম ইউনিয়নের আদাড়িয়াপাড়ায় অধ্যাপক আজাদের নিজ বাসভবনে এ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় দুই নেতা একে অপরকে মিষ্টিমুখ করান এবং সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশে সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় করেন।
নির্বাচনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা শেষে এমন সৌজন্যমূলক আচরণ রাজশাহী-৩ আসনে রাজনৈতিক সম্প্রীতির নতুন বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় রাজনীতিকরা। স্থানীয়রা এ ঘটনাকে ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন। তাদের প্রত্যাশা, পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার ভিত্তিতে এ আসনে টেকসই উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
এ সময় জামায়াত নেতা অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ বলেন, মিলন আমার ছোট ভাই। দীর্ঘদিন আমরা একসঙ্গে গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলাম। নির্বাচনে জয়-পরাজয় থাকবেই। তিনি জনগণের রায়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাই রাজশাহী-৩ আসনের উন্নয়নে আমি সর্বাত্মক সহযোগিতা করব ইনশাল্লাহ।
বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন বলেন, নির্বাচন গণতন্ত্রের উৎসব। মতপার্থক্য থাকলেও আমাদের লক্ষ্য একÑজনগণের কল্যাণ। রাজশাহী-৩ আসনের উন্নয়নে সবার মতামত ও সহযোগিতা নিয়ে কাজ করতে চাই।
তিনি আরো বলেন, নির্বাচন রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তা দিয়েছে। জেলা ও মহানগরের আদলে এ আসনের উন্নয়ন করা হবে। কালাম ভাই একটানা ২৮ বছর হড়গ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন। তার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নিতে চাই। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় আগামী বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করব।
এর আগে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে অধ্যাপক আজাদ বিজয়ী প্রার্থীকে অভিনন্দন জানিয়ে লেখেন, ‘রাজশাহী-৩ আসনে বিজয়ী হওয়ায় অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন ভাইকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। বিজয় কেবল আনন্দের মুহূর্ত নয়, এটি বিশ্বাস রক্ষার গুরুদায়িত্ব। জনগণের আশা যেন বাস্তবে রূপ পায়, এ প্রত্যাশাই রাখি। আমার সামান্য সহযোগিতাও যদি কাজে লাগে, সেটাই হবে বড় প্রাপ্তি। আমরা সব সময় জনকল্যাণে গঠনমূলক ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখব।’
পবা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুর রাজ্জাক বলেন, রাজনীতিতে সৌজন্য ও সহমর্মিতা গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে। এমন শুভেচ্ছা বিনিময় রাজনৈতিক সম্প্রীতির বার্তা বহন করে।
রাজশাহী-৩ আসনে মোট ছয় প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ধানের শীষ প্রতীকে অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন এক লাখ ৭৬ হাজার ৩১৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে এক লাখ ৩৭ হাজার ৯২৭ ভোট পান।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

