আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম) আসনে বিএনপি-জামায়াতসহ পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রার্থীদের হলফনামায় অর্থসম্পদে শীর্ষে রয়েছেন বিএনপির প্রার্থী আব্দুল আজিজ, শিক্ষায় শীর্ষে রয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা আব্দুল হাকিম। জানা গেছে, নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আব্দুল আজিজ, জামায়াতের অধ্যাপক আব্দুল হাকিম, ইসলামী আন্দোলনের এমদাদুল্লাহ, জাতীয় পার্টির ইউসুফ আহমেদ ও এবি পার্টির মোকছেদুল মোমিন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তারা সবাই বাছাইয়েও টিকেছেন।
এর মধ্যে বিএনপির আব্দুল আজিজ তিনবার ইউপি চেয়ারম্যান ও একবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি পাস। তিনি ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। পেশায় তিনি কৃষক। হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেছেন, তার ২০ ভরি স্বর্ণ রয়েছে, যা উপহার হিসেবে পাওয়া। নগদ অর্থ রয়েছে ২০ লাখ ৫৪৮ টাকা। সঞ্চয়পত্রসহ ব্যাংকে জমা আছে ১৬ লাখ ৮৭ হাজার ৯২ টাকা। স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি মিলিয়ে আয়কর রিটার্নে উল্লেখিত তার মোট সম্পদের পরিমাণ পাঁচ কোটি ৭৯ লাখ ৩১৬ টাকা। তার স্ত্রীর আয়কর রিটার্নে ৩৬ লাখ ৮৬ হাজার ৬৮৬ টাকার সম্পদ রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া এ প্রার্থীর আট কক্ষের একটি বাড়ি থাকলেও কোনো গাড়ি নেই বলে হলফনামায় দেওয়া তথ্যে জানা গেছে। তার নামে থাকা তিনটি মামলার মধ্যে একটিতে খালাস পেয়েছেন। অপর দুটি মামলা উচ্চ আদালতে স্থগিত রয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা আব্দুল হাকিমের পেশা অধ্যাপনা। তিনি এর আগে দুবার ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও একবার উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। প্রার্থীদের মধ্যে তার সম্পদের পরিমাণ সবচেয়ে কম। তার মোট ২১ লাখ ৫৭ হাজার ৬৯ টাকার সম্পদ রয়েছে। তার কোনো স্বর্ণ নেই। কোনো কৃষিজমি বা নিজস্ব বাড়ি নেই। তিনি পৈতৃক বাড়িতে যৌথ পরিবারে বসবাস করেন। তবে বাড়ি না থাকলেও তার একটি নিজস্ব গাড়ি (মাইক্রোবাস) রয়েছে। এই প্রার্থীর ব্যাংকে ৪৯ হাজার ৩৩২ টাকা জমা রয়েছে। আর নগদ অর্থ রয়েছে ৯ লাখ ১৩ হাজার ৭৩৭ টাকা। তিনি অনার্স-মাস্টার্সসহ কামিল পাস। তার নামে বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা হলেও তিনি সেই মামলায় খালাস পেয়েছেন। অপরদিকে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী এমদাদুল্লাহর পেশা শিক্ষকতা। তিনি দাওরায়ে হাদিস পাস। নগদ টাকা রয়েছে ১০ লাখ। ব্যাংকে জমা ২ হাজার ১০০ টাকা। রয়েছে ছয় ভরি স্বর্ণ। ওয়ারিশ সূত্রে একটি বাড়ি রয়েছে। বাড়ি ভাড়া দিয়ে বার্ষিক ৬০ হাজার টাকা পান। শিক্ষকতার বেতনে ৩ লাখ ৪৪ হাজার টাকা আয়। তার ৩ শতাংশ অকৃষি জমিসহ ৩০ লাখ টাকার সম্পদ রয়েছে।
এবি পার্টির মোকছেদুল মোমিনের পেশা চাকরি। স্নাতকোত্তর এই প্রার্থীর চাকরি থেকে বার্ষিক আয় ৬ লাখ টাকা। নগদ আছে ২ লাখ ৮৬ হাজার ৪৫৭ টাকা। প্রাইভেট কার থাকলেও তার কোনো বাড়ি নেই। ১০ ভরি স্বর্ণ রয়েছে। মোট ২৫ লাখ ৭২ হাজার ৪৫৭ টাকা সম্পদের আয়কর রিটার্নে দেখানো হয়েছে। জাতীয় পার্টির প্রার্থী ইউসুফ আহমেদের পেশা ব্যবসা। পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে তার শিক্ষাগত যোগ্যতা সবচেয়ে কম, অষ্টম শ্রেণি পাস। তার ৩০ ভরি স্বর্ণ, নগদ অর্থ ১৫ লাখ ৬ হাজার ৮২ টাকা। মৎস্য ও কৃষি থেকে বার্ষিক আয় ৭ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। বসবাসের জন্য ১৩ শতাংশ জমির পাকা ভবন এবং কৃষিজমিসহ মোট ১ কোটি ১০ লাখ টাকার সম্পদ। আয়কর রিটার্নে তার মোট ১৫ লাখ ৬ হাজার ৮২ টাকার সম্পদ রয়েছে।
এসআই
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

