আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

পৌষের কনকনে শীতে সারা দেশে জনজীবনে দুর্ভোগ

আমার দেশ ডেস্ক

পৌষের কনকনে শীতে সারা দেশে জনজীবনে দুর্ভোগ
খড়কুটো জ্বালিয়ে ফরিদপুরের মধুখালীতে শীত নিবারণের চেষ্টা। ছবি: আমার দেশ

পৌষের কনকনে শীতে সারা দেশে জনজীবনে দুর্ভোগ বেড়েছে। নিম্নআয়ের মানুষ শীতবস্ত্রের অভাবে খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। অনেক এলাকাতেই এখনো শীতবস্ত্র বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না।

নওগাঁ প্রতিনিধি জানান, পৌষের শেষ সময়ে উত্তরের জনপদ নওগাঁয় গতকাল বুধবার মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে স্থানীয় কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র। বুধবার সকালে জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করেছে বদলগাছী কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র। এটিই এখন পর্যন্ত নওগাঁ জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। নওগাঁর বদলগাছী কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের উচ্চ পর্যবেক্ষক হামিদুল হক বলেন, এক দিনের ব্যবধানে তাপমাত্রা ৪ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমেছে। আকাশে মেঘ ও বাতাস থাকায় শীতের তীব্রতা বেশি। আগামী কয়েক দিন তাপমাত্রা কেমন থাকবে, তা এই মুহূর্তে সঠিকভাবে বলা যাচ্ছে না।

বিজ্ঞাপন

তেঁতুলিয়া (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি জানান, উত্তরাঞ্চলের পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রিতে নামায় পৌষের কনকনে শীতে জনজীবনে দুর্ভোগ বেড়েছে। গতকাল বুধবার তেঁতুলিয়ায় ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার তাপমাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে তাপমাত্রার কিছুটা পরিবর্তন হলে ১০ থেকে ১৫-এর ঘরে ওঠানামা করে। কিন্তু দুদিন ধরে ক্রমেই তাপমাত্রা কমতে শুরু করায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বিরাজ করছে। পঞ্চগড়সহ উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে চলছে। এদিকে সারা দিন ঘন কুয়াশায় দুদিন সূর্যের দেখা মেলেনি। তীব্র শীত সত্ত্বেও এখনো শীতার্ত মানুষের মাঝে প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়নি।

পঞ্চগড় প্রতিনিধি জানান, উত্তরের সীমান্ত জেলা পঞ্চগড়ে টানা দুই সপ্তাহ ধরে সূর্যের মুখ দেখা নেই। হঠাৎ করে গতকাল বুধবার কিছু সময়ের জন্য সূর্যের দেখা মিললেও তাতে ছিল না উত্তাপ। সূর্যের কিরণ না থাকায় আগের দিনের মতোই শীতের তীব্রতা অনুভূত হয়েছে গত মঙ্গলবারও। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ভারী কুয়াশার সঙ্গে উত্তরের হিমালয়ান কনকনে শীতল বাতাস কাবু করে ফেলেছে এই জনপদের মানুষকে। শীত নিবারণের গরম কাপড়ের অপ্রতুলতায় শীতার্ত মানুষগুলোকে খড়কুটো জ্বেলেও শীত নিবারণের চেষ্টা করতে দেখা গেছে।

মধুখালী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি জানান, ঘন কুয়াশা আর শৈত্যপ্রবাহের শীতে কাঁপছে ফরিদপুরের মধুখালীর মানুষ। উপজেলার নদীপাড়ের মানুষের কষ্ট বেড়েছে কয়েক গুণ। নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা অসহায় হয়ে পড়েছে। শীতের দাপটে কাজকর্ম না থাকায় ঘরবন্দি হয়েছে সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষ। অভাব আর শীত একই সঙ্গে তাদের কাঁপিয়ে তুলছে। কনকনে ঠান্ডায় শীতে কাঁপছে গড়াই-মধুমতী পাড়ের দরিদ্র অসহায় মানুষ। মধুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রওশন জাহান বলেন, ‘এরই মধ্যে আমরা সারা উপজেলায় দুই হাজারের মতো কম্বল শীতার্ত মানুষের মধ্যে বিতরণ করেছি, যা চাহিদার তুলনায় অনেক কম।’

জামালপুর প্রতিনিধি জানান, যমুনা নদী ও ব্রহ্মপুত্র নদ-তীরবর্তী জামালপুরে শৈত্যপ্রবাহের হিমেল হাওয়ায় এ অঞ্চলের মানুষ শীতের তীব্রতায় কাবু হয়ে পড়েছে। মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারছে না। নিম্নআয়ের মানুষ কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। বেশি কষ্টে আছে নদীপাড়ের মানুষসহ শিশু ও বৃদ্ধরা। শীতের কাপড়ের অভাবে কনকনে শীতে নদীপাড়ের বাসিন্দাদের দিন কাটছে নিদারুণ কষ্টে। প্রতিদিন শীতজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।

বদলগাছী (নওগাঁ) প্রতিনিধি জানান, নওগাঁর বদলগাছীতে পৌষের শীতের তীব্রতায় স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। হাড়কাঁপানো শীত, তীব্র কুয়াশা আর উত্তরের হিমেল হাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে উপজেলার স্বাভাবিক জনজীবন। গত বছরের তুলনায় চলতি বছর শীতের তীব্রতা অনেক বেশি হওয়ায় বিপাকে পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ। সবচেয়ে বেশি দুর্দশায় পড়েছে খেটে খাওয়া দিনমজুর শ্রমিকরা।

নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি জানান, দিনাজপুরে শীতের তীব্রতা আরো বেড়েছে। ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার সকালে দিনাজপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৪ শতাংশ। ভোর থেকে ঘন কুয়াশার কারণে সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। শীতের প্রকোপে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ, দিনমজুর, শিশু ও বয়স্করা।

দিনাজপুর প্রতিনিধি জানান, দিনাজপুরে তাপমাত্রা আরো কমেছে, বেড়েছে শীতের তীব্রতা। তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় শীতের তীব্রতা আরো বেড়েছে। শীতের কারণে মানুষ, গবাদিপশু ও অন্যান্য পশুপাখি কাহিল হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে শ্রমজীবী ও খেটে খাওয়া মানুষগুলো বেশি বিপাকে পড়েছে। শীতে কাজ না পেয়ে কষ্টে জীবনযাপন করছেন শ্রমজীবী খেটে খাওয়া মানুষগুলো। দিনাজপুরে বইছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ।

মাদারীপুর প্রতিনিধি জানান, মাদারীপুরে শৈত্যপ্রবাহের প্রভাবে সূর্যের দেখাই মিলছে না প্রায় ১০ দিন। শিরশিরে হিমেল হাওয়া, ঘন কুয়াশা ও কনকনে শীতে জবুথবু হয়ে পড়েছে জনজীবন। জেলার অধিকাংশ এলাকায় তীব্র শীত ও প্রচণ্ড ঠান্ডায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শীতের দাপটে গ্রামাঞ্চলের অনেকেই আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম জানান, এ পর্যন্ত আমরা ১ হাজার ৫০০ কম্বল পেয়েছি, যা প্রতিটি ইউনিয়নে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে শীতার্ত মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।

ইন্দুরকানী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি জানান, পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে জেঁকে বসেছে শীত। সঙ্গে বইছে হিমেল বাতাস, দিনের বেলাতেও ঝরছে ঘন কুয়াশা। হঠাৎ করে শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। শীতজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও বাড়ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ইন্দুরকানীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন