জন্মগতভাবে দুটি হাত নেই। কিন্তু শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কখনো থামিয়ে রাখতে পারেনি সিরাজগঞ্জের কামারখন্দের মোছা. নিলা খাতুনকে। অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন । এখন একটি চাকরির অপেক্ষায় দিন কাটছে তার।
নিলা খাতুন উপজেলার ঝাঐল ইউনিয়নের চরবরধুল গ্রামের ওসমান গণির মেয়ে। জন্ম থেকেই দুই হাত না থাকলেও ছোটবেলা থেকেই তিনি পায়ের সাহায্যে লেখা, খাওয়া, পোশাক পরা এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কাজ নিজেই করে আসছেন। পরিবারের কাজেও তিনি নিয়মিত সহযোগিতা করেন।
শিক্ষাজীবনে চরবধুল দাখিল মাদরাসা থেকে দাখিল এবং কামারখন্দ ফাজিল মাদ্রাসা থেকে আলিম ও ফাজিল এবং সিরাজগঞ্জের আহমেদ কামিল মাদ্রসা থেকে কামিল (মাস্টার্স) পাস করেন। অদম্য এই নিলা খাতুন প্রমাণ করেছেন, শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও—ইচ্ছাশক্তিই মানুষের সাফল্যের গল্প।
তবে তার দাবি, উচ্চশিক্ষা শেষ করে শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে এখনো চাকরির সুযোগ পাননি। তবুও তিনি হতাশ নন। নিজের যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে সমাজের জন্য কাজ করার সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছেন।
নিলা খাতুন বলেন, আমি কখনো আমার প্রতিবন্ধকতাকে দুর্বলতা মনে করিনি। পড়াশোনা করেছি, নিজের কাজ নিজেই করি। আমি কাজ করার একটি সুযোগ চাই। প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটা সরকারি চাকরি চাই।
স্থানীয় প্রতিবেশীরা বলেন, নিলা খাতুন শুধু একজন শিক্ষিত নারী নন; তিনি অসংখ্য মানুষের জন্য অনুপ্রেরণার নাম। প্রতিকূলতার কাছে হার না মেনে তিনি যেভাবে উচ্চ শিক্ষা করেছেন, তা সমাজে ইতিবাচক বার্তা ছড়ায়।
তারা মনে করেন, মেধা ও সক্ষমতার যথাযথ মূল্যায়ন হলে তিনি সমাজ ও দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন। নিলার জীবনগল্প প্রমাণ করে, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা মানুষের স্বপ্নকে থামিয়ে দিতে পারে না। প্রয়োজন শুধু সমান সুযোগ, ন্যায্য মূল্যায়ন এবং সমাজের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি।
এলাকাবাসী জানায়, হাত ছাড়া জন্ম নেওয়া নিলা খাতুন এখন তার এলাকার জন্য দৃষ্টান্ত। মানসিক ও সামাজিক বাধাকে অতিক্রম করলেও অভাব এখন তার বড় বাধা । একটি চাকরি হলেই পরিবারের পাশাপাশি সমাজের জন্যও কিছু করার ইচ্ছা তার।
এমই
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

