বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কম

বিএনপির বিরুদ্ধে কেন্দ্র দখলের অভিযোগ করলেন জামায়াতের প্রার্থী

স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া

বিএনপির বিরুদ্ধে কেন্দ্র দখলের অভিযোগ করলেন জামায়াতের প্রার্থী
জামায়াত প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল নির্বাচনে বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন। ছবি: আমার দেশ

আজ বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বগুড়া-৬ সদর আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে। তবে ভোটার উপস্থিতি কম দেখা গেছে । বেলা বাড়লেও ভোটার উপস্থিতি তেমন বাড়েনি। বগুড়ার ১০টি কেন্দ্র ঘুরে কোথাও ৭ শতাংশ, কোথাও ৮ শতাংশ ভোট পড়েছে; দুপুর ১২টা পর্যন্ত কোনো কেন্দ্রেই ১০ শতাংশ ভোটার উপস্থিতি হয়নি।

সকাল সাড়ে ৭টায় শুরু হওয়া এই ভোটে সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টায় বগুড়া করনেশন স্কুল ও কলেজ কেন্দ্রে ভোট পড়েছে মাত্র ১০৭টি। এই কেন্দ্রের মোট ভোটার ৪ হাজার ৬০ জন।

বিজ্ঞাপন

কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার মেহেদী হাসান বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির তুলনায় ভোটার উপস্থিতি কম লক্ষ করা যাচ্ছে। তিনি আশা করছেন, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটারের সংখ্যা বাড়বে।

বেলা সাড়ে ১১টায় মালতিনগর প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে জামায়াত প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল বলেন, এই কেন্দ্রে সকাল ১০টায় নির্বাচনি এজেন্টের কাছ থেকে অগ্রিম স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের নিয়ম অনুযায়ী, ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর এই ফরম পূরণ করে স্বাক্ষর নেওয়ার কথা থাকলেও তা সকালেই সম্পন্ন করার চেষ্টা করা হয়।

তিনি আরো বলেন, রাজাপুর কেন্দ্রে আমাদের এজেন্টদের বের করে দিয়ে বিএনপি ভোটকেন্দ্র দখল করেছে। এসব কর্মকাণ্ডে সরাসরি রিটার্নিং অফিসারের হাত রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আসনটিতে মোট ভোটার ৪ লাখ ৫৪ হাজার ৪৩ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ২ লাখ ৩১ হাজার ২৩৪ জন, পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২২ হাজার ৭৯৯ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১০ জন। আসনটিতে পুরুষের চেয়ে নারী ভোটার বেশি। মোট ১৫০টি কেন্দ্রে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ করা হবে।

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া আসনটিতে উপনির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন তিনজন। তারা হলেন— বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা (ধানের শীষ), শহর জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান সোহেল (দাঁড়িপাল্লা) এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির আল আমিন (ফুলকপি)।

আসনটিতে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে মোট প্রদত্ত ৩ লাখ ২২ হাজার ২২৩ ভোটের মধ্যে তারেক রহমান পেয়েছিলেন ২ লাখ ১৬ হাজার ২৩৪ ভোট। জামায়াতের আবিদুর রহমান সোহেল পেয়েছিলেন ৯৭ হাজার ৬২৬ ভোট। অন্য আরও ৩ প্রার্থী হাজারের ঘর টপকাতে পারেননি।

জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিএসবি) সূত্রে জানা যায়, ১৫০টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৫৩টিকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সাধারণ কেন্দ্রের চেয়ে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা রয়েছে। ৮ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। সেনা ও র‌্যাবের টহল কয়েক দিন ধরেই চলছে। এছাড়া থাকছে স্ট্রাইকিং ফোর্স, ১৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং ২ জন বিচারক নিয়োজিত করা হয়েছে।

জেলা নির্বাচন অফিসার ও রিটার্নিং কর্মকর্তা ফজলুল হক বলেন, সব ধরনের নিরাপত্তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারে, সে জন্য প্রশাসন সার্বক্ষণিক সহায়তা করছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন