রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে হামে আক্রান্ত আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। শিশুটির বাড়ি রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায়। এ নিয়ে রামেক হাসপাতালে হামে আক্রান্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল চারজনে।
হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কে বিশ্বাস জানান, বুধবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ২২ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। একই সময়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১৪ জন। বর্তমানে হাসপাতালে হামে আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে ১১৭ জন শিশু। তাদের মধ্যে ১২ জন আইসিইউতে ভর্তি রয়েছে। এছাড়া আইসিইউ সেবার জন্য অপেক্ষায় রয়েছে আরও ৫৬ জন শিশু।
এছাড়াও বড়দের জন্য আইসিইউ রয়েছে ২৮টি। বুধবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত আইসিইউ এর জন্য অপেক্ষামাণ রোগীর সংখ্যা ৮৪ জন বলে জানান ডা. শংকর কে বিশ্বাস। দুপুর ১টায় তিনি হাসপাতালের হামে আক্রান্ত রোগীদের নিয়ে ব্রিফ করেন।
তিনি বলেন, ভর্তি রোগীদের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এছাড়া রাজশাহী, পাবনা ও নওগাঁ থেকেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগী এসেছে। বিভাগের বাইরে খুলনার কুষ্টিয়া ও ঢাকার রাজবাড়ী জেলা থেকেও রোগী ভর্তি হয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের বেশিরভাগের বয়স দুই বছরের নিচে, যার মধ্যে অধিকাংশের বয়স ছয় মাস বা তারও কম। টিকা দেওয়ার বয়স আগের আগে আক্রান্ত ৬৫ শতাংশ।
হাসপাতালের মুখপাত্র জানান, পরিস্থিতি মোকাবেলায় চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ মেডিকেল টিম নিরলসভাবে কাজ করছে। ইতিমধ্যে ৪০ শয্যার হাম আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি শিশু ওয়ার্ডে পৃথক আইসোলেশন কর্নার তৈরি করে সন্দেহভাজন রোগীদের সেখানে ভর্তি করা হচ্ছে।
ডা. শংকর কে বিশ্বাস আরও বলেন, রোগীর চাপ বাড়তে থাকলে পুরো একটি শিশু ওয়ার্ডকে হাম আইসোলেশন ইউনিটে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য সচিবের নির্দেশনায় রাজশাহীর হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে আইসিইউতে থাকা হাম আক্রান্ত শিশুদের স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া হাসপাতালে আইসিইউতে হামে আক্রান্ত রোগীদের জন্য আরও সাতটি শয্যা বাড়ানোর কাজ চলছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

