আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

হাসিনা সরকারের আক্রোশ

তারেক রহমানের গড়া পার্কে ময়লার ভাগাড়

সবুর শাহ্ লোটাস, বগুড়া

তারেক রহমানের গড়া পার্কে ময়লার ভাগাড়

বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে বগুড়ার মানুষের জন্য তারেক রহমানের অনুপ্রেরণায় গড়া পার্কটি শেখ হাসিনার আক্রোশের কারণে এখন ময়লার ভাগাড়। লন্ডনের বৈঠকে আলোচনা হওয়ায় বিষয়টি টক অব দ্য কান্ট্রিতে পরিণত হয়েছে। এরপরই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন ও বিএনপি নেতারা।

বগুড়ায় জাহাঙ্গীরাবাদ ক্যান্টনমেন্টের পাশে এবং তিন রাস্তার সংযোগস্থল ঢাকা-দিনাজপুর মহাসড়ক, বগুড়া-রাজশাহী মহাসড়ক ও রংপুর-রাজশাহী মহাসড়কের পাশে অবস্থিত ত্রিভুজ আকৃতির এ জায়গায় হাঁটাচলার জন্য দৃষ্টিনন্দন যে পার্কটি গড়ে তোলা হয়েছিল, সেটি এখন রীতিমতো ময়লার ভাগাড় ও জঙ্গলে পরিণত হয়েছে। স্থাপনাগুলোও ভেঙে গেছে। গত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শেখ হাসিনার আক্রোশে এটির অস্তিত্ব একেবারে বিলীন করে দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

গত ১৩ জুন লন্ডনে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে তারেক রহমানের দুই ঘণ্টার বৈঠকে বগুড়া এবং এ পার্কের কথাও আলোচনায় উঠে আসে। এর পরেই সেখানে গিয়ে পার্কটির করুণ দৃশ্য চোখে পড়ে।

বগুড়া সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শাজাহানপুর উপজেলার শাকপালা মৌজায় জেএল নম্বর ১৩৬-এর ৭ দশমিক ৪ একরজুড়ে পার্কটির উন্নয়নকাজ সড়ক বিভাগ ২০০৩-০৪ অর্থবছরে শেষ করে। শুরুতে মানুষ সকাল-বিকাল দুই বেলা হাঁটার জন্য ব্যবহার করতেন। এ ছাড়াও তিন সড়কের সংযোগস্থল হওয়ায় মানুষজন এখানে বিশ্রামও নিতেন। বর্তমানে পার্কটি অপরিষ্কার, ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধ ও জঙ্গল হওয়ার কারণে মানুষের ঢোকা দুষ্কর হয়ে পড়েছে। পার্কটিতে বসে বিশ্রামের জন্য থাকা শেডগুলোও নষ্ট হয়ে গেছে।

গত ১৪ জুন ওই স্থানে গেলে রাস্তার ধারে বিশ্রাম নেওয়া কয়েকজন রিকশাচালক এ প্রতিবেদকে বলেন, অবহেলা ও যত্ন না নেওয়ার কারণে পার্কটি এখন মানুষজন ইচ্ছামতো গণশৌচাগার হিসেবে ব্যবহার করছে। দুপুরে সরেজমিন পার্কে গিয়ে দেখা যায়, পার্কের চারপাশে কাঁটাতার দিয়ে যে ঘেরাও করা ছিল, সে ঘেরাও আর নেই। এখন সম্পূর্ণ উন্মুক্ত। হাঁটার রাস্তাগুলো ময়লা-আবর্জনায় ঢেকে গেছে। টিলার ওপর যে বিশ্রামকেন্দ্রটি ছিল, সেটিও আংশিক ভেঙে গেছে। বসার জন্য মাঝে মাঝে ঢালাই করা বেশ কয়েকটি বেঞ্চ ছিল, সেগুলোরও ভগ্নদশা। দৃষ্টিনন্দন যে ক্যানেল ছিল, সেখানে এখন ময়লা-আবর্জনা ও পূতি-দুর্গন্ধযুক্ত পানি জমে আছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ওমর ফারুক ও জসিম উদ্দিন জানান, সম্ভবত ২০০৪ সালে বিএনপি সরকারের আমলে পার্কটি দৃষ্টিনন্দন করে গড়ে তোলা হয়েছিল। যতটুকু মনে পড়ে সে সময় এই পার্কে তারেক রহমানের একটি নামফলকও উন্মোচন করা হয়েছিল। বর্তমানে তার নিদর্শনটিও আর নেই। গোটা পার্কটির চতুর্দিক ঘেরা ছিল, ছিল সড়ক বিভাগের একজন পাহারাদার। সম্প্রতি সড়ক বিভাগের কিছু কাজ হওয়ার কারণে পার্কটি মালামাল রাখার জন্য ব্যবহার করা হয়। এর পরে আর কোনো অস্তিত্ব নেই।

বগুড়া সড়ক বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী (সার্ভেয়ার) দেলোয়ার হোসেন আমার দেশকে বলেন, একসময় শাকপালা ইন্টারসেকশনে আব্দুস সাত্তার নামে একজন মালী নিয়মিত সেখানে কেয়ারটেকার হিসেবে থাকতেন। গত ১০ বছর আগে তার অবসর গ্রহণের পর সেখানে নতুন কোনো লোক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। জায়গাটি স্টকইয়ার্ড হিসেবে সড়ক বিভাগ দেখাশোনা ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করছে। এর বাইরে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান।

এ ব্যাপারে বগুড়া শহর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট হামিদুল হক চৌধুরী হিরু বলেন, জোট সরকারের আমলে তারেক রহমানের অনুপ্রেরণায় বগুড়ার মানুষের স্বাস্থ্য সচেতনতার জন্য তিনি পার্কটি গড়ে তুলেছিলেন। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের আক্রোশের কারণে এ পার্কের এতদিন কোনো সংস্কার বা উন্নয়ন হয়নি। আমরা এ পার্কের পূর্ণাঙ্গ সংস্কার চাই এবং আগের পরিবেশ ফিরে পেতে চাই।

বগুড়া সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল মুনসুর আহমেদকে বারবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

গত ১৪ জুন বগুড়ার জেলা প্রশাসক হোসনা আফরোজ ও জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা, সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেনসহ বিএনপি নেতারা পার্কটি পরিদর্শন করেন।

জেলা প্রশাসক আমার দেশকে বলেন, আমি বগুড়ার উন্নয়নে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। খুব দ্রুত পার্কটিকে আবার সাবেক চেহারায় ফিরিয়ে আনা হবে। পার্কের সংস্কার ও উন্নয়নের জন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বগুড়া সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হোসেন মনসুর বলেন, স্থানটি পরিদর্শন করেছি। প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ জেলা প্রশাসকের কাছে নিয়ে যাচ্ছি। খুব তাড়াতাড়ি কাজ শুরু হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন