চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ফল আমদানি বন্ধ রয়েছে। এবার বন্ধ হলো পাথর আমদানি । অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালু (শুল্কায়নের জন্য নির্ধারিত সরকারি মূল্য) বাড়ানোর প্রতিবাদে টানা ১৩ দিন ধরে পাথর আমদানি বন্ধ রয়েছে। এতে একদিকে সরকার যেমন রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে বন্দরে কর্মরত প্রায় ৮০০০ শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে।
গত ২ মে থেকে শুরু হওয়া এই অচলাবস্থার কারণে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই স্থলবন্দরে পুরোপুরি স্থবিরতা নেমে এসেছে। বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান পানামা সোনামসজিদ পোর্ট লিংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপক মাঈনুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
একসময়ের কর্মব্যস্ত বন্দরটিতে এখন পাথরবাহী ট্রাকের আনাগোনা না থাকায় চারদিকে প্রায় সুনসান নীরবতা বিরাজ করছে। বিশেষ করে যারা দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ করেন, সেসব শ্রমিক কাজ না পেয়ে, চরম অনিশ্চয়তা ও আর্থিক সংকটের মধ্যে দিন পার করছেন। ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, দীর্ঘদিন ধরে তারা প্রতি টন পাথর সর্বোচ্চ ১৩ ডলার অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালু বা শুল্কায়ন মূল্যে আমদানি করে আসছিলেন। মূলত এই মূল্যের ওপর ভিত্তি করেই কাস্টমস কর্তৃপক্ষ আমদানিকৃত পণ্যের শুল্ক নির্ধারণ করে থাকে। কিন্তু সম্প্রতি ভারতীয় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ হঠাৎ করেই এই পাথরের অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালু টন প্রতি ২ ডলার বাড়িয়ে ১৫ ডলার নির্ধারণ করেছে। আমদানিকারকদের দাবি, আমদানিকৃত পাথরের প্রায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশই নিম্নমানের। এমন পরিস্থিতিতে বাড়তি ২ ডলার শুল্কায়ন মূল্য পরিশোধ করে পাথর আমদানি করলে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে হবে। মেসার্স আরিশা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী আলমগীর জুয়েল জানান, লোকসান দিয়ে ব্যবসায়ীরা পাথর আনতে ইচ্ছুক নন এবং এই বর্ধিত ভ্যালু প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত, তারা আমদানি কার্যক্রমে ফিরবেন না।
পাথর আমদানিকারক সাঈদী ইসলাম জানান, তারা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ১৩ ডলারের বিপরীতে ঋণপত্র বা এলসি সম্পন্ন করেছেন। এমতাবস্থায়, ভারতের পক্ষ থেকে বাড়তি মূল্য দাবি করায়, তারা বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়েছেন। আমদানি বন্ধের এই নেতিবাচক প্রভাব সরাসরি পড়েছে বন্দরের সাধারণ শ্রমিকদের ওপর। দীর্ঘদিন ধরে বন্দরে পাথর লোড-আনলোডের কাজ করা শ্রমিক সফিকুল ইসলাম তার দুশ্চিন্তার কথা জানান। তিনি বলেন, তারা দিন আনেন দিন খান, কিন্তু গত এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে বন্দরে কোনো ট্রাক না আসায়, তাদের আয় একবারে বন্ধ হয়ে গেছে। ঘরে জমানো টাকা ফুরিয়ে আসছে এবং এভাবে আর কয়েকদিন চললে পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
আরেক শ্রমিক মোশারফ হোসেন জানান, বন্দরটি মূলত পাথর আমদানির ওপর ভিত্তি করেই চলে এবং পাথর না এলে তাদের আর কোনো কাজ থাকে না। সারাদিন বন্দরের শেডের নিচে অলস বসে থেকে দিন শেষে খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে। বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান পানামা সোনামসজিদ পোর্ট লিংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপক মাঈনুল ইসলাম বলেন, একটানা ১৩ দিন ধরে ভারত থেকে পাথর আমদানি বন্ধ রয়েছে। আমদানিকারক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক মূল্যের এই জটিলতা সমাধান না হলে বন্দরের রাজস্ব আদায়ে যেমন ধস নামবে, তেমনি শ্রমিকদের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে উঠবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

