আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

সাপাহারে শীতের পোশাক কিনতে ফুটপাতে মানুষ

উপজেলা প্রতিনিধি, সাপাহার (নওগাঁ)

সাপাহারে শীতের পোশাক কিনতে ফুটপাতে মানুষ

উত্তরের হিমেল হাওয়া ও কুয়াশার কারণে বেড়ে গেছে শীতের তীব্রতা। দিনের বেশির ভাগ সময় দেখা মিলছে না সূর্যের। সাপাহার উপজেলায় প্রচণ্ড শীতে জনজীবন বিপর্যস্ত। একটু গরম কাপড়ের জন্য নিম্ন আয়ের মানুষ ছুটছে ফুটপাতের বাজারে।

বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে ফুটপাতের দোকানগুলোতে ব্যাপক ভিড়। হঠাৎ শীত জেঁকে বসেছে। গত চার-পাঁচ দিন ধরে বস্ত্র ব্যবসায়ীরা গরম কাপড় বিক্রিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। বর্তমানে জমজমাট বেচাকেনায় খুশি ব্যবসায়ীরা।

বিজ্ঞাপন

সাপাহার উপজেলার জিরো পয়েন্ট মোড় থেকে বাজারের বিভিন্ন এলাকা, ফুটপাতগুলোতে গরম কাপড়ের ১৫ থেকে ২০টা দোকানে চোখে পড়ার মতো ভিড় । এই তীব্র শীতে এসব দোকানে সব বয়সি মানুষের আনাগোনা। নতুন-পুরোনো সোয়েটার বা জ্যাকেট কিনতে ক্রেতাদের বেশি উৎসাহ।

ক্রেতাদের অভিযোগ, মৌসুমের পুরোপুরি শীত না নামলেও পোশাকের দাম অনেক। তার পরেও কিছুটা সাশ্রয়ের আশায় শীতের পুরোনো পোশাক কিনছেন তারা।

সাপাহার উপজেলার বিভিন্ন স্থানে রয়েছে অন্তত ১৫ থেকে ২০টা গরম কাপড়ের দোকান । শীতের শুরু থেকে বেশ ভালোই বেচাকেনা করছেন ব্যবসায়ীরা।

পুরোনো শীতের পোশাক বিক্রেতা আব্দুল কুদ্দুস জানান, তারা ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুষ্টিয়া, পাবনাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে শীতের কাপড়, বিশেষ করে জ্যাকেট-সোয়েটারের বেল্টগুলো কেনেন। সেই বেল্ট ভেঙে সাইজ করেন। পরে ক্রেতাদের সামনে সাজিয়ে বিভিন্ন দামে বিক্রি করেন।

এই বেল্টগুলোয় বড়-ছোট সবার জ্যাকেট ও সোয়েটার রয়েছে। বিক্রেতারা ১৫০ টাকা থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত দামে কাপড় বিক্রি করেন। ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত চার-পাঁচ দিন ধরে শীত পড়ছে। আর এই কয়েক দিনে তারা প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকার শীতের পোশাক বিক্রি করছেন। এতে তাদের প্রতিদিন গড়ে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা লাভ হয়।

পোশাক কিনতে আসা আসমা খাতুন নামে এক ক্রেতা বলেন, পুরোনো পোশাকের দাম কম হওয়ায় তিনি তার মেয়ের জন্য একটি সোয়েটার এবং তার নিজের জন্য আরেকটি সোয়েটার কেনেন। দাম ২৬০ টাকা। তিনি আরো বলেন, তাদের মতো মধ্যবিত্তরা একটু সাশ্রয়ী দামে কিনতে ফুটপাতে আসেন। ফুটপাত তাদের ভরসা।

সাপাহার উপজেলা জিরো পয়েন্টের নিউমার্কেটের গার্মেন্টস মালিক এনামুল হক জানান, তার দোকানে ছেলেদের জ্যাকেটের দাম ১২০০ থেকে ৪০০০ টাকা পর্যন্ত, মেয়েদের লং সোয়েটার ৮০০ থেকে ৩৫০০ টাকা, বাচ্চাদের সোয়েটার ৭০০ থেকে ১১০০ টাকা, ছেলেদের মাফলার ৩০০ থেকে ১০০০ টাকা এবং টুপি ১৫০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তিনি আরো জানান, তাদের দোকানের পাশাপাশি তুলনামূলক পুরোনো কাপড়ের দোকানেই বেশি বেচাকেনা হচ্ছে। তবে আরো শীত পড়লে আরো বেশি বেচাকেনা হবে।

এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে ফুটপাত ও অভিজাত দোকানগুলোতে উচ্চবিত্ত-মধ্যবিত্ত, সচ্ছল-অসচ্ছল সব মানুষের ভিড়ও চোখে পড়ার মতো ।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন