চাঁপাইনবাবগঞ্জে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। এডিস মশাবাহিত রোগটিতে আক্রান্ত হচ্ছে সববয়সী মানুষ। ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া শিশুর সংখ্যাও কম নয়। প্রতিনিয়ত এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় জনমনে বাড়ছে উদ্বেগ ও আতঙ্ক।
গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৩ জন।
রোববার সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি ৩৩ রোগীর মধ্যে পুরুষ ১৮ জন, মহিলা ২৮ জন ও ২ জন শিশু রয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার ডেঙ্গু পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়। বৃহস্পতিবার আক্রান্ত হয়েছিলেন ১৩ জন এবং শুক্রবার ভর্তি হয়েছিলেন ৭ জন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে হাসপাতালে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি আছেন ৫০ জন।
রোগী ও স্বজনরা জানান, হাসপাতালে চিকিৎসা ব্যবস্থা ভাল হলেও পৌরসভার উদাসীনতার কারণে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা।
২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মো. মাসুদ পারভেজ বলেন, জেলায় এবার যখন প্রথম ডেঙ্গু শনাক্ত হয়, তখন বৃষ্টি ছিলো না। তাপপ্রবাহ চলছিল। এরপরেই ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা অপ্রতুল হওয়ার কারণে এমনটা হতে পারে। এ বছর ডেঙ্গু প্রকোপে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার পিটিআই, আরামবাগ, বালুবাগানসহ আশপাশের মহল্লাগুলোয় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেশি। এখানে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ক্রিটিক্যাল রোগীদের রাজশাহীতে রেফার্ড করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সামনে বর্ষা মৌসুম থাকায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে আমাদের কাছে এসব রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত ওষুধ-সরঞ্জাম আছে। আশা করছি কোনো সমস্যা হবে না।
ডেঙ্গু বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা নিয়ে জানতে চাইলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. একেএম শাহাব উদ্দিন বলেন, বর্তমানে জেলায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তের সংখ্য বাড়ছে। এই রোগ প্রতিরোধে আমরা নিয়মিত কাজ করছি। আক্রান্তদের জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সচেতন করার জন্য মাইকিং হচ্ছে। সাধারণ মানুষ সচেতন হলে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা কমতে পারে। হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী ২১০ ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

