তিন বছর ধরে খালি পড়ে থাকা রাজশাহী শিশু হাসপাতাল অবশেষে চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তিন মাসের মধ্যে আংশিকভাবে হাসপাতালটি চালু করা হবে বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল পরিদর্শনে এসে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, আমরা তিন মাসের মধ্যে আংশিকভাবে রাজশাহী শিশু হাসপাতাল চালু করব। প্রথমে আউটডোর সেবা শুরু হবে এবং আগামী অর্থবছরে অন্যান্য সেবা চালু হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসও রামেক হাসপাতাল পরিদর্শনে আসেন। এ সময় তিনি শিশু হাসপাতাল চালুর পাশাপাশি সদর হাসপাতাল ও বক্ষব্যাধি হাসপাতালসহ যেসব অবকাঠামো তৈরি হয়েছে, সেগুলো সচল করার উদ্যোগ গ্রহণের পরিকল্পনার কথা জানান।
জানা গেছে, প্রায় আট বছর আগে নগরীর বন্ধগেট এলাকায় ৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট শিশু হাসপাতালটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। তিন বছর আগে এর কাজ শেষ হলেও সরকারের পক্ষ থেকে হাসপাতালটি বুঝে না নেওয়ায় সেবা কার্যক্রম শুরু হয়নি। দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় হাসপাতালের বিভিন্ন জিনিসপত্র চুরিও হয়ে গেছে।
নবনির্মিত শিশু হাসপাতালে থাকবে ১২টি নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (এনআইসিইউ) বেড। এনআইসিইউর অপেক্ষায় থাকতে থাকতে শিশুদের মৃত্যুর ঘটনা সামনে আসার পরই হাসপাতালটি চালুতে উদ্যোগ নেয় সরকার।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শিশু হাসপাতালটি চালু না হওয়ায় রামেক হাসপাতালের শিশু বিভাগে রোগীর অনেক চাপ পড়ে। রাজশাহী ছাড়াও রংপুর ও খুলনা বিভাগের শিশুরা এখানে চিকিৎসা নেয়। ২০০ শয্যার বিপরীতে প্রায় ৭০০ রোগী ভর্তি থাকায় কর্তৃপক্ষ হিমশিম খায়। শিশুদের জন্য রয়েছে মাত্র ১২টি এনআইসিইউ শয্যা। এ শয্যার জন্য সব সময় দীর্ঘ লাইন থাকে, সিরিয়াল দিলে ৩০ থেকে ৫০ জনের পর ডাক পড়ে। সম্প্রতি হামের প্রকোপ বাড়ায় এনআইসিইউর চাহিদা আরো বেড়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

