সড়ক সংস্কারে নিম্নমানের উপকরণ, কাজ বন্ধ করে দিয়েছে পৌরকর্তৃপক্ষ

উপজেলা প্রতিনিধি, গুরুদাসপুর (নাটোর)

সড়ক সংস্কারে নিম্নমানের উপকরণ, কাজ বন্ধ করে দিয়েছে পৌরকর্তৃপক্ষ

নাটোরের গুরুদাসপুরে প্রায় ১২ কোটি টাকার পাঁচ প্রকল্পের নির্মাণ ও সংস্কার কাজে নিম্নমানের ইট ও মাটি মিশ্রিত খোয়া ব্যবহারসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।

বিজ্ঞাপন

অভিযোগের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে চিঠি দিয়ে কাজ বন্ধ করে দেওয়াসহ নিম্নমানের উপকরণ ও নির্মাণ সামগ্রী প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ।

বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে নাটোরের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সিনথিয়া-আলামিন-ও আনিসুর ( জয়েনভেঞ্চার) ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান গুরুদাসপুর পৌনসভার ওই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করছে।

পৌরসভা অফিস সূত্রে জানাগেছে, পৌরসভার দুখাফকিরের মোড় থেকে তাড়াশিয়াপাড়া সীমান্ত পযন্ত ২ দশমিক ২৫ মিটার ও পৌরসভার আনন্দনগর ওভারব্রীজ থেকে খুবজীপুর অভিমুখে ২দশমিক ২০ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারকাজ (কার্পেটিং) করার কথা । পাশাপাশি জিয়াখালের কভার ড্রেন কাম রাস্তা, সড়কবাতি ও পরিবেশ সংরক্ষণ নামে পাঁচটি প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজগুলো পায় ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। এজন্য বরাদ্দ রয়েছে ১১ কোটি ৭৭ লাখ ৪৫ হাজার ৮৭১টাকা।

বুধবার প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখাগেছে, সড়ক দুইটির সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে। সড়কে থাকা পুরাতন ইটগুলো তুলে সেই ইট দিয়ে খোয়া তৈরি করা হয়েছে। সড়কের দুই পাশে বসানো হয়েছে্ এজিং ইট। অন্য তিনটি প্রকল্পের কাজ এখনো শুরু হয়নি।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, সড়ক দুইটি নির্মাণকাজে নিম্নমানের খোয়া ব্যবহার করা হয়েছে। ব্যবহৃত ইটের খোয়ায় মাটি মিশ্রিত রয়েছে। নিয়ম উপেক্ষা করেই এসব খোয়া বিছানো হয়েছে সড়কে। এতে এলাকাবাসীর মাঝে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। অনিয়মের এমন চিত্র সামাজি মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পৌর কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, দীঘ বছরের দুর্ভোগ পোহানোর পর সড়ক দুইটির সংস্কার কাজ শুরু হওয়ায় এলাকার মানুষের মাঝে স্বস্থি ফিরে আসে। কিন্তু নির্মাণ ও সংস্কারকাজে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নিম্নমানের ইট খোয়া বালি ও মাটি মিশ্রিত খোয়া সড়কে বিছানোর ঘটনায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

অভিযোগ প্রসঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে মাসুদ রানা মুঠোফোনে দাবি করে বলেন, স্থানীয়দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ সাময়িকভাবে নির্মাণ ও সংস্কারকাজ বন্ধ করতে তাদের চিঠি দেওয়া হয়েছে। একারনে কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। দ্রুত সংস্কার কাজ শেষ কিছু ইট ও খোয়া সরিয়ে নিয়ে সেখানে ভালো ইট ফেলা শুরু হয়েছে।

গুরুদাসপুর পৌর নির্বাহী প্রকৌশলী আবু রায়হান জানান, নির্মাণ ও সংস্কার কাজে কোন রকম অনিয়ম সহ্য করা হবেনা। সিডিউল মোতাবেক নির্মাণ ও সংস্কার কাজ বুঝে নেওয়া হবে। এজন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দিয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

গুরুদাসপুর পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ বলেন, অনিয়মের অভিযোগগুলো নজরে আসায় কাজ বন্ধ করাসহ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে কাজ শুরু করার আগে সিডিউল অনুসরণ করে ভালোমানে ইট, খোয়াসহ যাবতীয় উপকরণ পরীক্ষা নিরীক্ষার পর নতুন করে কাজ শুরু করতে পারবেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

এমই

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন