পরিবহন ভাড়া বাড়ানোর প্রতিবাদে পাবনার ঈশ্বরদী ইপিজেডের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন শ্রমিকেরা। শনিবার সকালে এ ঘটনায় কয়েক ঘণ্টা ইপিজেডের প্রবেশপথ বন্ধ থাকে এবং প্রধান ফটকের বাইরে কয়েক হাজার শ্রমিক অবস্থান নেন। পরে বেপজা কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
জানা গেছে, সম্প্রতি জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে শ্রমিক পরিবহনে ব্যবহৃত বাস ও ভটভটির ভাড়া বাড়িয়ে দেন পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। এতে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে শ্রমিকদের মধ্যে। ভাড়া পুনর্নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে শনিবার সকাল থেকেই শ্রমিকেরা ইপিজেডের প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হয়ে আন্দোলন শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন।
এ সময় ইপিজেডের ভেতরে প্রবেশ ও বের হওয়া সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে বেপজা কর্তৃপক্ষ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও শ্রমিক প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। পরে শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে বেপজা কর্তৃপক্ষের আলোচনা হয়।
আলোচনায় শ্রমিকদের দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলে শ্রমিকেরা প্রধান ফটকের তালা খুলে দেন। এরপর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয় এবং উৎপাদন কার্যক্রম পুনরায় চালু হয়।
ইপিজেডের শ্রমিক আব্দুল আলিম বলেন, ‘আমরা অনেকেই পাবনা, কুষ্টিয়া, চাটমোহর, রাজশাহীর বাঘাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে রিজার্ভ বাস ও ভটভটিতে করে ইপিজেডে যাতায়াত করি। এখন বাসচালকেরা ৫০০ টাকা এবং ভটভটিচালকেরা ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমান বেতনে সংসার চালাতেই কষ্ট হয়। এর মধ্যে আবার যাতায়াত ভাড়া বাড়ানো হলে আমাদের চলাচল করা কঠিন হয়ে যাবে। আমরা বাড়তি ভাড়া দিতে পারছি না বলেই বাধ্য হয়ে আন্দোলনে নেমেছি।’
ইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক এ বি এম শহিদুল ইসলাম বলেন, শ্রমিকদের কিছু দাবি ও পরিবহন ভাড়া বাড়ানোর বিষয় নিয়ে সাময়িক অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। আমরা শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। তাদের দাবিগুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং উৎপাদন কার্যক্রমও স্বাভাবিকভাবে চলছে।
জেডএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

