গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় পায়খানার সেপটিক ট্যাংকির ভেতর থেকে নূরমা আক্তার (১৫) নামে দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার তালুককানুপুর ইউনিয়নের সমসপাড়া (চৌধুরীপাড়া) গ্রামের নজরুল ইসলামের মেয়ে এবং তালতলা দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী নূরমা আক্তারকে রোববার সকাল ১১টার দিকে বাড়িতে রেখে জমিতে কাজ করতে যান তার বাবা-মা।
দুপুরে বাড়ি ফিরে এসে মেয়েকে না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন তারা। আত্মীয়-স্বজন ও আশপাশের বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে বাড়ির উঠানের পাশে একটি রক্তমাখা বটি এবং বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা রক্তের দাগ দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। পরে রক্তের চিহ্ন অনুসরণ করে পাশের বাড়ির একটি পায়খানার সেপটিক ট্যাংকির ঢাকনা খুলে ভেতরে নূরমার লাশ দেখতে পান।
এ সময় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
পুলিশ জানিয়েছে, লাশের গলায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে জবাইয়ের স্পষ্ট ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিহতের বাবা নজরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, “পরিকল্পিতভাবে শত্রুতামূলকভাবে আমার মেয়েকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। আমি এর সঠিক বিচার চাই এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।”
গোবিন্দগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোজাম্মেল হক বলেন, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা সদর আধুনিক হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

