আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

ব্যবসায়ীদের মার্জিমাফিক চলছে রংপুরে নিত্যপণ্যের বাজার

বাদশাহ ওসমানী, রংপুর

ব্যবসায়ীদের মার্জিমাফিক চলছে রংপুরে নিত্যপণ্যের বাজার

রমজান শুরু হওয়ার পর থেকেই রংপুর মহানগরীর বিভিন্ন বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী। এতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ খেটে খাওয়া ও নিম্নআয়ের রোজাদাররা। বাজারে তদারকির অভাব ও সিন্ডিকেটের কারসাজির অভিযোগে ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে।

সিটি বাজারসহ কয়েকটি পৌর বাজার ঘুরে দেখা গেছে, রমজানকেন্দ্রিক প্রায় সব পণ্যের দাম বেড়েছে। বিশেষ করে সব ধরনের খেজুরের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে পণ্যের দাম ইচ্ছেমত বাড়িয়ে তাদের মুনাফা হাতিয়ে নিচ্ছেন। বাজার মনিটরিং না থাকায় ব্যবসায়ীদের ইচ্ছেমত দামেই ক্রেতারা পণ্য কিনতে বাধ্য হচ্ছে বলে সাধারণ মানুষের অভিযোগ। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন উল্টো কথা, বাজারে পণ্যের সরবরাহ কম। মোকামে দাম বেশি এবং যানবাহনের খরচ বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতাদের কাছ থেকে তুলনামূলক দাম বেশি নিতে হচ্ছে তাদের।

বিজ্ঞাপন

ক্রেতা আমিনুল ইসলাম ও বুলবুল আহমেদ বলেন, রমজানের শুরু থেকেই ব্যবসায়ীরা বড় অংকের দাও মারার জন্য ঝুঁকে পড়েন। রমজানের আগেই তারা নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য গুদামজাত করে রাখেন। তাদের সিন্ডিকেটের কারসাজির কারণে সাধারণ লোকজন ও রোজাদারেরা অস্বস্তিতে পড়েছেন। রোজার আগের মাসে যেসব পণ্যের দাম ছিল হাতের নাগালে, রমজান শুরু হতে না হতেই সেই পণ্যের দাম দ্বিগুণ বাড়িয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে খেজুর, ছোলাসহ আমদানিকৃত পণ্য আকাশছোঁয়া দামে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারগুলোতে দেখা গেছে, ব্যবসায়ীরা তাদের ইচ্ছেমতো দামে ক্রেতাদের পণ্য কিনতে বাধ্য করছেন। বিশেষ করে খেজুর জাতভেদে দুই থেকে তিন গুণ বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। সাগরে জাহাজডুবির কথা বলে খেজুরের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ভারতীয় ও পাকিস্তানি জাতের খেজুরগুলো আগের দামের চেয়ে দুই থেকে তিনগুণ বেশি দাম হাঁকানো হচ্ছে। গত মাসে যে খেজুর ছিল ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি, সেগুলো এখন বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে। মরিয়ম ও আজোয়া খেজুর বিক্রি হচ্ছে ১৬০০ টাকা থেকে শুরু করে ২৮০০ টাকায়।

বাজারে বেড়েছে মসলা জাতীয় পণ্য এবং মুরগির দামও। সবজির বাজারও চড়া, কেজিতে দাম বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ টাকা। ৩০ টাকার লেবু বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়। ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কেজিপ্রতি দাম বেড়েছে ৬০ টাকা। দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে গত মাসের চেয়ে দ্বিগুণ দামে। গতমাসে দেশি মুরগির কেজি ছিল ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। সেই দেশি মুরগি এখন বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৬৫০ টাকা কেজি দরে। যে ছোলা আগে ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, সেই ছোলা এখন বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১২০ টাকায়। গরুর মাংস কেজিতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে কেজি ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকায়। প্রতিটি মসলাতে দাম বেড়েছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা। যে রসুন আগে বিক্রি হতো ৯০ থেকে ১০০ টাকায়, সেই রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে। ২০ থেকে ৩০ টাকা হালিতে বিক্রি হওয়া লেবু ৮০ থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। চাল, ডিমের দাম ততটা না বাড়লেও বেড়েছে সব ধরনের মাছের দাম। আলু ছাড়া বেড়েছে সব সবজির দামও। করলা, বেগুন, টমেটো, সিমসহ প্রতিটি সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা করে বেশি নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ খেটে খাওয়া ও নিম্নআয়ের মানুষ।

ক্রেতারা অভিযোগ করেন, পাইকারি বাজারের স্বচ্ছতা ও কার্যকর তদারকির প্রয়োজন। ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণে আকাশচুম্বী নিত্যপণ্যের বাজার। ভালো তরিতরকারিও খেতে পারছে না রোজাদার ব্যক্তিরা।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, রংপুরের মানুষ যেন সঠিক দামে চাল-ডাল-খেজুরসহ নিত্যপণ্য কিনতে পারে, সেই লক্ষ্যে রমজান মাস ঘিরে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযান অব্যাহত থাকবে। বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ালে জরিমানাসহ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে ভোক্তা।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক এনামুল আহসান বলেন, বাজার মনিটরিংয়ে আমাদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা কাজ করছেন। তারপরও যেখানে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে সেখানেই আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি, যাতে করে রোজাদাররা সঠিক দামে তাদের পণ্য কিনতে পারেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন