নীলফামারী-৪ আসনে জয় পরাজয় মেনে জয়ী ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা ফুল দিয়ে একে অপরকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন, করেছেন মিষ্টিমুখ। রাজনৈতিক মাঠ মানেই একে অপরকে কাদা ছোড়াছুড়ি, একজন আর একজনকে দোষারোপ করা, রাজনৈতিকভাবে ঘায়েল করা, পাল্টাপাল্টি ব্যক্তিগত আক্রমণ করা- এই রকমই চিত্র বিদ্যমান ছিল।
কয় দিন আগেও নীলফামারী-৪ আসনে বিএনপি, জামায়াত ও জাপা প্রার্থীর পক্ষে-বিপক্ষে গণমিছিল, হয়েছে দোষারোপ ও পাল্টাপাল্টি ব্যক্তিগত আক্রমণ। আচরণবিধি লঙ্খনেও ছিল পাল্টাপাল্টি অভিযোগ। কেউ কাউকে একচুল ছাড় দেননি।
কিন্তু ভোট শেষেই হয়ে উঠলেন বন্ধু। উন্নয়নের স্বার্থে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নিলেন কাজ করার প্রত্যয়। নীলফামারী-৪ আসনে নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন জামায়াত প্রার্থী হাফেজ মাওলানা আব্দুল মুনতাকিম। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিলেন বিএনপির আব্দুল গফুর সরকার ও জাপার সিদ্দিকুল আলম। ভোট যুদ্ধে একজন জয়ী হলেও পরাজিত হন দুজন।
কিন্তু সব ভেদাভেদ ভুলে জয়ী প্রার্থী হাফেজ আব্দুল মুনতাকিম পরাজিত বিএনপি ও জাপা প্রার্থীর বাড়িতে গিয়ে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় ও মিষ্টিমুখ করেছেন।
নবনির্বাচিত জামায়াতের সংসদ সদস্য হাফেজ আব্দুল মুনতাকিম আমার দেশকে জানান, আমরা সবাই এক সঙ্গে কিশোরগঞ্জ-সৈয়দপুরের উন্নয়ন করতে চাই। আমরা নজির সৃষ্টি করতে চাই রাজনৈতিকভাবে ভিন্ন মতের হলেও উন্নয়নের স্বার্থে আমরা সবাই এক। বিএনপি, জাপা প্রার্থীর বাড়িতে গিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছি।
বিএনপির প্রার্থী আব্দুল গফুর সরকার জানান, এটি গণতান্তিক চর্চা। নিরংকুশ বিজয় অর্জন করেছে আমাদের দল। আমাদের নেতা তারেক রহমান দেশকে নতুনভাবে দেশ গড়তে জামায়াত আমির ও এনসিপির আহ্বায়কের বাড়িতে গিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। সবার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করে প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে ঐক্যমতের আহ্বান করেছেন। সে রকমই নবাগত সাংসদ আমার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করে মতামতের ভিত্তিতে কাজ করার আশা প্রকাশ করেছেন। আমাদের রাজনৈতিক মতভেদ থাকতেই পারে, কিন্তু এলাকার উন্নয়নে মতভেদ থাকবে না।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. শহিদুল ইসলাম জানান, জয়ী প্রার্থী আব্দুল মুনতাকিম আমার কাছে এসেছিলেন। আমরা একসঙ্গে উন্নয়নের আশা ব্যক্ত করেছি। একে অপরের প্রতি সহযোগিতা থাকবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

