ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের আমলে শেখ রাসেল স্মৃতি সংঘের সাইনবোর্ড দিয়ে জমি দখল করে নেয় ভূমিদস্যু। সেই দখলকৃত জমি ছেড়ে দিতে বলায় জমির মালিকানা দাবিকৃতদের তিনজনকে ডেকে বেধরক মারধর করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার রাতে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায়।
এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদশীর্রা জানান, বুধবার রাত ৮টার দিকে শেখ রাসেল স্মৃতি সংঘের সাইনবোর্ড দিয়ে জমি দখলে নেয়া এশা, গাড়িয়াল ও স্বাধীন জমির মালিকানা দাবিদার বাদশা ও এমদাদুল হককে রাস্তা থেকে টেনে বাড়ির ভিতরে নিয়ে মারধর করা হয়। এমদাদুলের জামাতা ফয়জুল সেখানে গেলে তাকেও বেধরক মারধরা করা হয়।
স্থানীয়রা এমদাদুল হক (৬০), বাদশা (৩৫) ও ফয়জুলকে (৪৩) উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা করায়। এ সময় খড়ের গাদার আগুণ দাউ দাউ করে জ্বলে উঠলে চারদিকে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে ফায়ার সার্ভিস প্রায় দেড় ঘণ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার পর থেকে এশা, গাড়িয়াল ও স্বাধীন পক্ষের লোকজন পলাতক রয়েছে।
এলাকাবাসী আরও জানান, কিশোরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ওয়াল ও নীলফামারী-রংপুর সড়ক সংলগ্ন জায়গা উত্তর দুরাকুটি গ্রামের এমদাদুল হক এবং তার পরিবারের সদস্যরা ভোগ দখল করে আসছিল। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শেখ রাসেল স্মৃতি সংঘের সাইনবোর্ড দিয়ে শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক হিজবুল্লাহ ডালিমসহ তার পরিবারের সদস্যরা জমি দখল করে চালা তোলে। সম্প্রতি রাস্তার ড্রেন নিমার্ণের সময় এসব চালা ভেঙ্গে ফেলা হয়। আবারও ওই জায়গায় ডালিমের পরিবারের সদস্য গাড়িয়াল, এশা, স্বাধীন বাঁশ ও খড়ের গাদা করে রাখে। অন্যদিকে এমদাদুল হকের জামাতা ফয়জুল সেখানে দোকান উত্তোলনের জন্য ইট ফেলে। এ নিয়ে উভয় পক্ষ সোমবার ঝগড়ার সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে থানায় একটি পক্ষ অভিযোগ করেছে।
এমদাদুল হক জানান, কিশোরগঞ্জ হাসপাতালে আমাদের পরিবার জায়গা দিয়েছে। পারিবারিক অবশিষ্ট জমি আমরা পারিবারিকভাবে ভোগ দখল করে আসছিলাম। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শেখ রাসেল স্মৃতি সংঘের নামে সাইন বোর্ড দিয়ে রাতারাতি জমিটি দখলে নেয় ডালিমসহ তার পরিবার। সম্প্রতি তাদের জমি ছেড়ে দিতে বললে তারা বিভিন্ন রকম হুমকি দেয়। কদিন আগে আমার জামাতা সেখানে দোকান তোলার জন্য ইট আনলে তারা ক্ষিপ্ত হয়। বুধবার আমাকে ও আমার ছেলেকে বসার জন্য ডেকে এনে রাস্তা থেকে টেনে বাড়িতে নিয়ে বেধড়ক মারধর করে। আমার জামাতা এগিয়ে আসলে তাকেও মারধর করে। এছাড়া আমার পকেটে থাকা কুড়ি হাজার টাকা গাড়িয়ালের বৌ ছিনতাই করে নেয়।
এশার জামাতা মোস্তাফিজার জানান, আমি গাড়িয়ালসহ পরিবারের লোকজনকে বলেছি জমি যেহেতু এমদাদুল হকদের তাই তাদেরকে জমি ছেড়ে দিতে বলেছি।
কিশোরগঞ্জ থানার এসআই রিপন জানান, খবর পেয়ে এসে দেখি এলাকাবাসীর মাঝে উত্তোজনার সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাস্থলে এমদাদুল হক পক্ষের লোকজনের উপস্থিতি পেলেও অপরপক্ষ পুলিশের উপস্থিতি দেখে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় তিনজনকে মারধর করে আহত করেছে বলে শুনেছি। পরিস্থিতি শান্ত করা হলে কে বা কারা ওই জায়গার খড়ের গাদায় আগুন লাগিয়ে দেয়। খবর দেয়া হলে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে নেয়।
কিশোরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আশরাফুল ইসলাম বৃহস্পতিবার সকালে জানান, কয়েকদিন আগে একটি পক্ষ দোকান ভাংচুরের অভিযোগ দিয়েছে। বুধবারের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে খবর পেয়ে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়। এ ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

