দুদক কর্মকর্তার ছদ্মপরিচয় ব্যবহার করে সরকারি কর্মকর্তা, রাজনীতিক ও ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে তাদের নামে দুদক কার্যালয়ে অভিযোগ রয়েছে এবং মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে হুমকি দিয়ে কয়েক কোটি টাকা আদায় করে নেয় রেজওয়ানুল হক।
বৃহস্পতিবার বিকেলে রংপুর র্যাব-১৩ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান।
তিনি আরও জানান, বিভিন্ন মিডিয়াতে প্রকাশিত সংবাদ দেখে রেজওয়ানুল হক টার্গেট নির্ধারণ করতো এবং টার্গেটের মোবাইল নম্বর সংগ্রহপূর্বক বেনামি রেজিস্ট্রেশনের সিম কার্ড ব্যবহার করে নিজেকে দুদকের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে দুদক মামলা করার প্রস্তুতি নিয়েছে বলে হুমকি দিয়ে চাঁদা দাবি করতো।
র্যাব জানায়, আসামি দীর্ঘদিন যাবত সুকৌশলে আত্মগোপনে ছিল। বুধবার (৪ মে) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দিনাজপুরের হাকিমপুর থানার কাকড়াতালী গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তোর করে। প্রায় ৩৬ ঘণ্টার অভিযানে আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেপ্তারকৃত রেজওয়ানুল হক (২৬) রংপুর পীরগঞ্জের মদসখালী এলাকার আল আমিনের ছেলে।
র্যাবের ওই কর্মকর্তা জানান, গ্রেপ্তারের পর আসামি রেজওয়ানুলের ভাষ্য থেকে জানা যায় যে, তার পরিবার তেমন সচ্ছল ছিল না। নিজের পড়াশোনার খরচ সে নিজেই যোগা করতো। কৃতিত্বের সাথে এসএসসি পরীক্ষায় পাশ করার পর সে একটি কম্পিউটারের দোকান চালানোর পাশাপাশি লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছিলো। কোনোরকম প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছাড়াই তিনি ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হ্যাকিং করা রপ্ত করে। সাবেক সংসদ সদস্যসহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির ফেসবুক আইডি হ্যাক করার পরে সে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় গ্রেফতার হয়ে জেলে যায়।
বিষয়টি গোচরীভূত হলে এ সংক্রান্তে দুদকের পক্ষ থেকে রমনা মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

