আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

ইটভাটার কারণে পাঁচ গ্রামে জনজীবন দুর্বিষহ

মিজানুর রহমান রাঙ্গা, সাঘাটা (গাইবান্ধা)

ইটভাটার কারণে পাঁচ গ্রামে জনজীবন দুর্বিষহ
ছবি: আমার দেশ।

গাইবান্ধার সাঘাটায় নিয়ম অমান্য করে যত্রতত্র গড়ে উঠেছে অবৈধ ইটভাটা। লোকালয়ের মাঝে গড়ে তোলা এসব ইটভাটার কালো ধোয়ায় ফসলি জমি ও পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে।

উপজেলার কাঠালতলী এলাকায় পাশাপাশি ২টি অবৈধ ইটভাটার বিরূপ প্রভাবে নানা ক্ষয়ক্ষতিসহ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন ৫ গ্রামের মানুষ। প্রশাসনের হস্তক্ষেপ না থাকায় দিন দিন বেড়েই চলছে এসব অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম।

বিজ্ঞাপন

এলাকার লোকজন জানান, কাঠালতলী গ্রামের ছোট রাস্তায় দিন-রাত চলছে ইটভাটায় মাটি বহনকারী অন্তত ৩০ টি ট্রাক্টর ও শ্যালোমেশিন চালিত পাওয়ার ট্রলি। গ্রামের জমির টপসয়েল (উর্বর অংশ) কেটে নিয়ে এসব যান-বাহনে ভরে ইটভাটায় দেওয়া হচ্ছে। মাটিবাহী এসব যান অতিরিক্ত চলার কারণে ওই এলাকার রাস্তাঘাট ভেঙে চুরে ও ধসে যাচ্ছে।

নিয়মনীতি উপেক্ষা করে সতীতলা, কাঠালতলী, বড়াইকান্দী, নশিড়ারপাড়া গড়গড়িয়া গ্রামগুলোর মাঝখানে ঘনবসতি ও আবাদি জমির মাঝে এসব ইটভাটা নির্মাণ করা হয়েছে। আধা কিলোমিটারের মধ্যে পাশাপাশি স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা ইনছার মুহুরীর এমএসবি ব্রিকস ও বুলু মেম্বারের টিএবি ব্রিকস নামের ২টি অবৈধ ইটভাটার কারনে অতিষ্ট হয়ে পড়েছেন এলাকার বাসিন্দারা।

সতীতলা গ্রামের বাসিন্দা মোতালেব হোসেন জানান, পাশাপাশি দুইটি ইটভাটা এই এলাকার সবচেয়ে বেশি কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের কারণে আবাদি জমি শেষ হচ্ছে, রাস্তাঘাট ভেঙেচুরে যাচ্ছে, পরিবেশ মারাত্মক দূষণ হচ্ছে। ইটভাটার কারণে এলাকায় শান্তিতে বসবাস করা যাচ্ছে না বলে জানালেন, নশিড়ারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আলতাব হোসেন। একই কথা জানিয়ে ওসমানেরপাড়া গ্রামের  বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম প্রশ্ন রেখে বলেন, এই ঘনবসতি এলাকার মাঝে কিভাবে এসব ইটভাটা চলতে পারে?

সরেজমিন দেখা গেছে, ইরি বোরোর জমির মাঝখানে পাশাপাশি ইটভাটা গুলো গড়ে তোলা হয়েছে। বড়াইকান্দী সরদার বাড়ির পিছনে আবুল কাশেমের এসবিএস ব্রিকস সহ উপজেলার শ্যামপুরে চোরকাটা নামক স্থানে, পদুমশহর, হাফানিয়া ও তেনাচিরা বিলে নতুন করে ৭টি ইটভাটা গড়ে উঠছে আবাদি জমির মাঝে। ১৯৮৯ সালের ইট পোড়ানো নিয়ন্ত্রণ আইন (সংশোধিত-২০১৩) অনুযায়ী সংরক্ষিত বনাঞ্চল, আবাদি জমি ও জনবসতিপূর্ণ এলাকার এক কিলোমিটারের মধ্যে ইটভাটা স্থাপন এবং ইট পোড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও আইনের কোন তোয়াক্কা না করে ওইসব স্থানে প্রকাশ্যে ইট পোড়ানো হচ্ছে। এসবের কোনোটিরই পরিবেশ অধিপ্তরের ছাড়পত্র নেই। এ ব্যাপারে কথা হলে শতীতলা কাঠালতলী এলাকার টিএবি ব্রিকস ইটভাটার মালিক ইনছার মহুরি বলেন, ছাড়পত্র না পাওয়ায় স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই ইটভাটা চালাচ্ছি। ইট তো বানাতে হবে।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, ইট পোড়ানোর ধোঁয়া, গ্যাস ও ধুলাবালির কারণে ক্ষেতের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে বলে জানান কৃষকরা। ভন্নতের মোড়ের রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী সোলায়মান আলী জানান, ইটভাটার কারনে ভালো সড়কটি অল্পদিনেই শেষ হচ্ছে। গ্রামের লোকজন জানান, এ এলাকায় গাছে তেমন ফল ধরেনা। নানা সমস্যা লেগেই আছে। ইটভাটার কারনে জমির আবাদ নিয়ে চিন্তায় আছি। কৃষকরা জানান, ইটভাটার কারণে জমিতে ফসল উৎপাদন কম হচ্ছে। এ বিষয়ে কথা হলে সাঘাটা উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ আসাদুজ্জামান বলেন, আবাদি জমির মাঝখানে ইটভাটা থাকায় বোরো সহ বিভিন্ন ফসলের ফলন দিন দিন কমে যাচ্ছে। যা কৃষকদের জন্য কষ্টের। সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশরাফুল কবীর বলেন, ইটভাটা গুলো আসলে পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে দেখা হয়। এ বিষয়ে রিকোজিশন আসলে অবশ্যই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...