দিনাজপুরের পার্বতীপুর শহরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে নিম্নমানের খাবার, মিষ্টি, দই ও খোরমা তৈরি এবং বিক্রির অপরাধে তিনটি নামী হোটেল ও ১টি বেকারীকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে জরিমানার টাকা অনাদায়ে মালিকদের ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে দিনাজপুরের পার্বতীপুর শহরের বিভিন্ন এলাকায় দিনাজপুর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত-৫ এর বিচারক সোহাগ হোসেনের নেতৃত্বে এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—পাবর্তীপুরের শাহ হোটেল, মুক্তিযোদ্ধা হোটেল এবং মামা-ভাগিনা হোটেল ও তাজ বেকারি।
ভ্রাম্যমান আদালত সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে এই হোটেলগুলোতে অত্যন্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে নিম্নমানের খাদ্যসামগ্রী তৈরি করা হচ্ছিল। বিশেষ করে সাধারণ মানুষের প্রিয় মিষ্টি, দই ও খোরমা তৈরিতে চরম অনিয়ম ও ক্ষতিকর উপাদানের ব্যবহার পাওয়ায় আজ সন্ধ্যায় আকস্মিক এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় হাতেনাতে অপরাধ প্রমাণিত হলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারকের কাছে সংশ্লিষ্ট হোটেলের মালিকেরা নিজেদের দোষ স্বীকার করেন।
দোষ স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে বিচারক মো. সোহাগ হোসেন ভোক্তা অধিকার ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ আইনের আওতায় তিন হোটেলকে ১ লাখ টাকা করে এবং তাজ বেকারিকে ২ লাখ মোট ৫ লাখ টাকা জরিমানা করেন। জরিমানার অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে পরিশোধ না করলে মালিকপক্ষকে ৬ মাসের জেল খাটার নির্দেশ দেওয়া হয়।
অভিযান শেষে বিচারক মো. সোহাগ হোসেন সাংবাদিকদের জানান, জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় এবং সাধারণ মানুষকে ভেজালমুক্ত খাবার নিশ্চিত করতে এই ধরনের অভিযান অত্যন্ত জরুরি। আগামীতেও দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার বিভিন্ন হোটেল, রেস্তোরাঁ ও মিষ্টির দোকান ও বেকারিগুলোতে এ ধরনের কঠোর নজরদারি এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

