কালবৈশাখীর ঝড়ে হাড়িভাঙ্গা আমের ব্যাপক ক্ষতি

উপজেলা প্রতিনিধি, তারাগঞ্জ (রংপুর)

কালবৈশাখীর ঝড়ে হাড়িভাঙ্গা আমের ব্যাপক ক্ষতি

টানা কয়েকদিনের কালবৈশাখী ঝড়, শিলাবৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার কারণে রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার বিখ্যাত হাড়িভাঙ্গা আম বাগানগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মৌসুমের শুরুতেই এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগে কাঁচা আম ঝরে পড়ে এবং অনেক আম শিলার আঘাতে ফেটে নষ্ট হয়ে গেছে।

স্থানীয় চাষিরা জানিয়েছেন, এতে চলতি মৌসুমে কাঙ্ক্ষিত ফলন ও আয় প্রায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

বিজ্ঞাপন

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বাগানের নিচে অসংখ্য কাঁচা আম পড়ে আছে। কোথাও গাছের ডাল ভেঙে পড়েছে, আবার কোথাও শিলাবৃষ্টিতে আম ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। তারাগঞ্জের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা হাড়িভাঙ্গা আমের এমন ক্ষতিতে কৃষকদের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে।

কুর্শা ইউনিয়নের রহিমাপুর গ্রামের চাষি খলিলুর রহমান বলেন, “আমার প্রায় দুই বিঘা জমির বাগানে এবার ভালো ফলনের আশা ছিল। কিন্তু কয়েকদিনের ঝড়েই অর্ধেক আম ঝরে গেছে। এত কষ্টের পর সব শেষ হয়ে গেল।”

সয়ার ইউনিয়নের মামুনপাড়া গ্রামের চাষি দবিরুল ইসলাম জানান, তার তিন বিঘা জমির বাগানে হাড়িভাঙ্গা আম ও লিচুর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন, “এবার ভালো লাভের আশা ছিল, কিন্তু এখন লোকসানই বেশি হবে।”

স্থানীয় আরও কৃষকরা জানান, শুধু আম নয়, লিচুসহ অন্যান্য মৌসুমি ফলেও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক গাছের ডাল ভেঙে পড়ায় ভবিষ্যৎ ফলন নিয়েও তারা শঙ্কিত।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, হাড়িভাঙ্গা আম তারাগঞ্জ উপজেলা-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল। প্রতি বছর এটি দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয় এবং অনেক কৃষকের জীবিকা এর ওপর নির্ভরশীল।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ধীবা রানী রায় বলেন, “টানা কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে আম, লিচুসহ বিভিন্ন ফলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করে সহায়তার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।”

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন