আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান

দেশের জন্য শহীদ আবু সাঈদের মতো বুক পেতে দিতে রাজি আছি

রংপুর অফিস

দেশের জন্য শহীদ আবু সাঈদের মতো বুক পেতে দিতে রাজি আছি

দেশের জন্য শহীদ আবু সাঈদের মতো বুক পেতে দিতে রাজি আছি, তবে দেশের এক ইঞ্চি জমির সম্মানও কারো কাছে বন্ধক রাখবো না—এমন ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

শনিবার সকাল ৯টায় রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর গ্রামে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত ও পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে শহীদ আবু সাঈদসহ জুলাই বিপ্লবে নিহত সকল শহীদের হত্যাকাণ্ডের বিচার সবার আগে সম্পন্ন করা হবে।

এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন রংপুর-৬ আসনের এমপি প্রার্থী মাওলানা নুরুল আমিন, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল হালিম, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর সদস্য সচিব ও রংপুর ৪ আসনের এমপি প্রার্থী আখতার হোসেন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল মো. সিগবাতুল্লাহসহ দলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন,“আমরা অঙ্গীকার করছি, শহীদ আবু সাঈদ ও তার সঙ্গীরা জীবন দিয়ে যে আমানত আমাদের কাঁধে রেখে গেছেন, জীবন দিয়ে হলেও সেই আমানত রক্ষা করার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ।”

Amardesh_Rangpur

তিনি আরও বলেন,“শহীদদের আকাঙ্ক্ষা ছিল একটি দুর্নীতিমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদমুক্ত মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা—যেখানে সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষ শান্তিতে বসবাস করবে এবং যোগ্যতা অনুযায়ী দেশ গঠনে ভূমিকা রাখবে। তারা ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ স্লোগান দিয়েছিল। আমরা সেই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।”

জামায়াত আমির বলেন,“২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে আজ পর্যন্ত আমরা কোনো চাঁদাবাজি, দখলদারি, দুর্নীতি কিংবা প্রতিশোধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াইনি। আমরা মামলা দিয়ে মানুষকে হয়রানি করিনি। আমাদের নিজস্ব কোনো গোপন এজেন্ডা নেই।”

জুলাই পরবর্তী সময়ে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন,“আমরা জাতিকে বিভক্ত হতে দেব না। এই বিভক্তির অবসান ঘটাতেই ১০ দলীয় জোট গঠন করা হয়েছে। পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে দেশের ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়া হয়েছে।” এ সময় তিনি ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে মাওলানা নুরুল আমিনকে পরিচয় করিয়ে দেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন,“জীবন যাবে, তবুও মাথা নত করবো না। শহীদ আবু সাঈদরা যেভাবে দেশের জন্য বুক চিতিয়ে দিয়েছিল, আমরাও সেভাবেই প্রস্তুত। কিন্তু দেশের এক ইঞ্চি জমির সম্মানও কারো কাছে বন্ধক রাখবো না।”

তিনি অবিলম্বে শহীদ আবু সাঈদসহ সকল শহীদের হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন করে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে শহীদদের পরিবারকে সারাজীবন পাশে রাখার প্রতিশ্রুতি দেন।

এর আগে কবর জিয়ারতের সময় শহীদ আবু সাঈদের পিতা মকবুল হোসেনকে জড়িয়ে ধরে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন জামায়াত আমির। পরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ন্যায়বিচার ও সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

কবর জিয়ারত ও পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে ডা. শফিকুর রহমান গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...